অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে বড় কড়াকড়ি! ভুয়ো সুবিধাভোগী ধরা পড়লেই কঠোর শাস্তি, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা ফেরাতে মরিয়া প্রশাসন। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে অযোগ্যদের ছেঁটে ফেলতে এবার কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জালিয়াতি রুখতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া।
কেন এই কড়াকড়ি? শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বেশ কিছু প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির নজির সামনে এসেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০-র বেশি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, যেখানে বিদেশি নাগরিক বা একই ব্যক্তি একাধিক নামে সুবিধা ভোগ করছিলেন। এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি মুর্শিদাবাদের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের হাতে অন্তত দুটো মাস সময় দিন, সমস্ত আবেদনের চুলচেরা বিশ্লেষণ বা ভেরিফিকেশন হবে। কেউ যদি ভুল তথ্য দিয়ে বা জালিয়াতি করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’’
কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
নতুন করে যাচাইকরণ: শুধুমাত্র আবেদনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিটি নথি যাচাই করার পর তবেই ভাতার টাকা অনুমোদন করা হচ্ছে।
জালিয়াতি রোধে স্বচ্ছতা: ভুয়ো আবেদনকারীদের ঠেকাতে কঠোর ডিজিটালাইজড ভেরিফিকেশন প্রসেস চালু করা হয়েছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ: যদি ভেরিফিকেশনের সময় প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি ভাতার সুবিধা নিচ্ছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রকল্পের অর্থের সঠিক বন্টন এবং প্রকৃত অভাবী মহিলারা যাতে সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, সরকারি তহবিলের অপচয় বা জালিয়াতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।