অন্নপূর্ণা যোজনার বড় আপডেট! সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারের মহিলারা কি টাকা পাবেন? জেনে নিন নয়া নিয়ম

রাজ্যের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র উপভোক্তা নির্বাচন ও সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল আনল রাজ্য সরকার। গত ৮ জুলাই নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কারা পাবেন না।
কারা বাদ পড়ছেন প্রকল্পের আওতা থেকে? সরকারি উদ্দেশ্য হলো, সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক এবং প্রকৃত অভাবী পরিবারের মহিলারা যেন এই আর্থিক সহায়তার সুবিধা পান। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো পরিবারের কেউ যদি সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং নিয়মিত বেতন বা ভাতা পান, তবে সেই পরিবারের আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
পাশাপাশি, নিম্নলিখিত পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন:
আশা কর্মী (ASHA Worker)
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী
পার্শ্বশিক্ষক (Para-teacher)
সিভিক ভলান্টিয়ার সরকারের লক্ষ্য, সরকারি সম্মান ভাতা বা পারিশ্রমিক পান এমন ব্যক্তিদের এই তালিকার বাইরে রেখে শুধুমাত্র যোগ্য ও দুস্থ মহিলাদের চিহ্নিত করা।
আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ আপডেট
সময়সীমা: ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া এবং যাচাইয়ের অধীনে থাকা সমস্ত আবেদনপত্র ১০ জুলাইয়ের (আজ) মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘এডিট অপশন’: যদি কোনো আবেদনকারীর তথ্য বা নথিপত্রে ভুল থাকে, তবে সমাজকল্যাণ দফতরের নতুন ‘এডিট অপশন’ ব্যবহার করে জেলা আধিকারিকদের সহায়তায় পোর্টালে তথ্য সংশোধন করা যাবে।
সুপারিশপত্র: দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে আধিকারিকের সুপারিশপত্র অনলাইনে আপলোড করা আবশ্যিক নয়, তবে সিল ও সই-সহ ওই নথির হার্ড কপি সংশ্লিষ্ট দফতরে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
কেন এই কড়াকড়ি? প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সময়মতো আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি কোষাগারের অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নবান্ন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি আবেদন যেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয় যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারেন।
আপনি যদি এই প্রকল্পে আবেদন করে থাকেন, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পোর্টাল বা জেলা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি।