স্মার্টফোন-ল্যাপটপ কেনার পরিকল্পনা করছেন? কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্তে কমতে পারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম!

আপনি কি নতুন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভি কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্য এল বড় সুখবর। দেশে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে, গেজেট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ওপর থেকে বেসিক কাস্টমস ডিউটি (BCD) তুলে দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

কী পরিবর্তন আসছে? এতদিন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও স্মার্ট টিভির মতো যন্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান যেমন—ডিসপ্লে অ্যাসেম্বলি, লিথিয়াম-আয়ন সেল এবং ইন্ডাক্টর কয়েল মডিউল আমদানির ওপর ৫ থেকে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসত। এখন সেই বেসিক কাস্টমস ডিউটি সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির খরচ অনেক কমে যাবে। এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা ৩১ মার্চ, ২০২৯ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

দাম কমার সম্ভাবনা কেন? গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের ঘাটতি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্টোরেজ ও চিপের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে অ্যাপল, স্যামসাং, ডেল বা লেনোভোর মতো বড় সংস্থাগুলি বাধ্য হয়ে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছিল। কেন্দ্রের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন খরচ কমলে, সংস্থাগুলো এখন তাদের পণ্যের দাম কিছুটা কমাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য কী? কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:

  • দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি: আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে ভারতে পণ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

  • চিন ও ভিয়েতনামের ওপর নির্ভরতা কমানো: প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি বা সস্তায় আমদানির মাধ্যমে ভারতের বাজারকে শক্তিশালী করা।

  • সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: গ্রাহকদের কাছে সুলভ মূল্যে উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই শুল্ক ছাড়ের সুফল সরাসরি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগলেও, আগামী দিনে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়বে। অর্থাৎ, ভারতের বুকে তৈরি ইলেকট্রনিক্স পণ্য এখন আগের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।