‘ডিম্বাস্ত্র’-ই সেরা প্রতিবাদ! বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম মারার নিদান দিয়ে বিতর্কে দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে ডিম-হামলা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই কি মতের অমিল? একদিকে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যখন এই ধরণের প্রতিবাদকে ‘অসুস্থ’ বলে অভিহিত করছেন, তখন ঠিক তার উল্টো অবস্থানে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুদ্ধিজীবী এবং সমাজবিরোধীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার নিদান দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি।
কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ? বারুইপুরের এনকাউন্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানানো বুদ্ধিজীবীদের তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যাঁদের নাম বলছেন, তাঁরা বুদ্ধিজীবী নন, আদতে সমাজবিরোধী। অপরাধ বাড়লে এঁরা চুপ থাকেন, আবার অপরাধীর শাস্তি হলে আন্দোলন করেন। আমি বলছি, ডিম যেখানে সেখানে নষ্ট করবেন না। বরং এই বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম মারুন। তাঁদের বুঝিয়ে দিন যে তাঁরা সমাজবিরোধী।”
‘ডিম্বাস্ত্র’ বাঙালির অভিনব আবিষ্কার! ডিম ছোঁড়াকে কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং বাঙালির এক ‘নতুন আবিষ্কার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তাঁর মতে, কারও গায়ে আঘাত না করে রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর এটি একটি কার্যকর পথ। তিনি আরও বলেন, “বাঙালি সমাজ বহুদিন পর এমন একটা অস্ত্র আবিষ্কার করেছে। এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে ধরে নেব তিনি সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তাই এই ভুল করবেন না।”
বিজেপির অন্দরেই দ্বিধা? সম্প্রতি তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়— একাধিক নেতা-নেত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিরোধীরা এর পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুর ছিল কিছুটা নরম। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে কাউকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া কোনো সুস্থ সমাজিক ব্যবস্থা হতে পারে না। সেখানে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর এমন খোলাখুলি সমর্থন বিজেপির অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।