পেট্রল হবে ৮২ টাকা! মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিস্ফোরক কেজরিওয়াল

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও দেশে কেন দাম কমানো হচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলেই এবার মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করলেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি সরাসরি দাবি তুলেছেন, পেট্রলের দাম অবিলম্বে ১০২ টাকা থেকে কমিয়ে ৮২ টাকা করতে হবে।
কেজরিওয়ালের আক্রমণের মূল পয়েন্টগুলো:
দাম কমানোর দাবি: কেজরিওয়াল মনে করছেন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনলে মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বড় স্বস্তি পাবেন।
বিপুল মুনাফার অভিযোগ: আপ সুপ্রিমোর অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে বিশ্ববাজারে অন্তত ছয়বার অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। তবুও ভারতে সেই অনুপাতে দাম কমেনি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তেল সংস্থাগুলো যে বিপুল মুনাফা করছে, তা আসলে কোথায় যাচ্ছে?
সাধারণের স্বার্থ: তাঁর মতে, আমজনতার পকেট কেটে তেল কোম্পানিগুলোকে লাভবান হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের পাল্টা যুক্তি: কেজরিওয়ালের এই আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই জ্বালানির দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের তরফ থেকে দুটি প্রধান যুক্তি দেওয়া হয়েছে:
পূর্বের লোকসান মেটানো: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়া সংকটের সময় যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া ছিল, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো নিজেদের কাঁধে সেই চড়া দামের ধাক্কা নিয়েছিল। ওই সময় কম দামে তেল ও রান্নার গ্যাস বিক্রি করতে গিয়ে সংস্থাগুলোর প্রায় ৭৪,৭৮১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
পুরানো স্টকের প্রভাব: মন্ত্রীর দাবি, সংকটকালে কেনা সেই চড়া দামের তেলই এখনও সংস্থাগুলো বিক্রি করছে, তাই হঠাৎ দাম কমানো সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, মে মাসের শেষে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় সাড়ে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই ধাক্কা এখনও কাটেনি। একদিকে মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা সাধারণ মানুষ এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর লোকসানের বোঝা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে তেলের দাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।