রাম মন্দিরের দান চুরি করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ! টাকা লুকাতে ছিল ‘মাস্টারপ্ল্যান’

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে ভক্তদের কষ্টের টাকা চুরির ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এর পেছনে ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এক আর্থিক জালিয়াতির ছক। রাম মন্দিরের চুরি হওয়া টাকা স্রেফ খরচ করা হতো না, বরং তা খাটানো হতো শেয়ার বাজারে! এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে তদন্তকারী সংস্থা।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ও মানি লন্ডারিং: গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃত অভিযুক্তরা জেরার মুখে স্বীকার করেছে যে, চুরি করা বিপুল নগদ টাকা তারা নিজেদের কাছে ফেলে রাখতে চায়নি। বরং সেই টাকা দিয়ে নামী কোম্পানির শেয়ার কেনা হতো। নিজেদের নামে বিনিয়োগ করলে ধরা পড়ার ভয় ছিল, তাই তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দিতে আত্মীয় ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা ট্রান্সফার করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—টাকার আসল উৎস লুকিয়ে ফেলা এবং সেই টাকা থেকেই মুনাফা কামানো।

তদন্তের অগ্রগতি:

  • ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: আর্থিক অনিয়মের জাল কাটতে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে থাকা প্রায় ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে।

  • বাসভবনে তল্লাশি: বুধবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তদের বাড়িতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথি ও আর্থিক ডায়েরি। এগুলিই এখন ‘মানি ট্রেল’ বা টাকা কোন পথে পাচার হয়েছে, তা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

  • চুরির কৌশল: মন্দির চত্বরে টাকা গোনার প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকরগুলি এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে নজরে রেখেছিল। একবারে বড় অঙ্কের টাকা চুরি না করে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে নগদ সরানো হতো, যাতে ট্রাস্টের হিসেবে কোনো অসঙ্গতি ধরা না পড়ে।

তদন্তকারীদের প্রতিক্রিয়া: তদন্তকারী দলের এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মামলা এখন আর শুধুমাত্র ক্যাশ চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চুরির টাকার প্রতিটি পয়সা কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে, শেয়ার বাজারের লেনদেন কীভাবে হয়েছে এবং কী পরিমাণ মুনাফা তারা জমানোর চেষ্টা করেছিল—পুরো বিষয়টির ‘মানি ট্রেল’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভক্তদের পবিত্র দানে এই ধরনের বাণিজ্যিক ফাটকা এবং জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।