আগস্টেই শুরু জনগণনা! ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবে তথ্য সংগ্রহ, জেনে নিন আপনার করণীয়

দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা বা সেনসাস ২০২৭। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে গণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গেছে। তাঁদের তথ্য সংগ্রহের ডিজিটাল পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
দুই ধাপে হবে প্রথম পর্ব: আগামী আগস্ট মাস থেকে শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ। দুই ধাপে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া:
প্রথম ধাপ (১ – ১৫ আগস্ট): শুরু হবে ‘সেলফ এনিউমারেশন’ বা স্বগণনা। নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে পরিবারগুলিকে নিজেদের তথ্য নিজেরা পূরণ করতে হবে। তবে প্রযুক্তিতে যাঁদের অসুবিধা আছে, তাঁদের সহায়তার জন্য গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন।
দ্বিতীয় ধাপ (১৬ – ৩১ আগস্ট): এই পর্যায়ে গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনলাইনে জমা পড়া তথ্যগুলি যাচাই করবেন।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হবে চূড়ান্ত পর্বের গণনা। প্রতিটি গণনাকর্মীকে ১৫০ থেকে ১৮০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে এলাকার ম্যাপিংয়ের কাজও সম্পন্ন হবে।
৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাগরিকদের: স্বগণনার সময় নাগরিকদের মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে আসবে ওটিপি (OTP)। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলির মধ্যে থাকছে—
বাড়ির নির্মাণশৈলী (মেঝে, দেওয়াল ও ছাদ)।
পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রধানের পরিচয়।
পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচালয় ও রান্নার জ্বালানির উৎস।
স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা গাড়ির মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
প্রতিটি সদস্যের বয়স, লিঙ্গ ও সামাজিক অবস্থান (তফসিলি জাতি/উপজাতি/অনগ্রসর শ্রেণি)।
কেন এই জনগণনা গুরুত্বপূর্ণ? সর্বশেষ ২০১১ সালে ভারতে জনগণনা হয়েছিল। ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও অতিমারীর কারণে তা স্থগিত ছিল। প্রায় দেড় দশক পর হতে চলা এই জনগণনার লক্ষ্য শুধু জনসংখ্যা গোনা নয়; বরং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলো যাচাই করা। অতীতে ২০০১ সালের সেনসাসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মিড-ডে মিল বা বনাধিকার আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। এবারের তথ্যও আগামী দিনের সরকারি নীতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।