সমুদ্রে নামা নিষেধ, ঝোড়ো হাওয়ার দাপট! দুর্যোগপূর্ণ উইকএন্ডে পর্যটকদের মাথায় হাত

সপ্তাহান্তের ছুটিতে যারা সমুদ্র সৈকতে আনন্দ করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে দক্ষিণবঙ্গে ফের বড়সড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর। প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় আপাতত সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ জুলাই, রবিবার পর্যন্ত দিঘার সমুদ্র স্নানে পর্যটকদের যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু দিঘা নয়, মন্দারমনি, তাজপুর এবং উদয়পুরের মতো জনপ্রিয় সৈকতগুলিতেও পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে বারণ করা হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশে তৈরি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার সম্মিলিত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই শঙ্করপুরের ১৫ জন মৎস্যজীবী সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন, যাদের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। তাই নতুন করে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও আগামী রবিবার পর্যন্ত দুর্যোগ চলবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায়। এই জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।

 শনি ও রবিবারের ছুটিতে সাধারণত দিঘা, মন্দারমনি বা তাজপুরের হোটেলগুলিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কিন্তু সমুদ্রে নামার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্যোগের পূর্বাভাসের ফলে পর্যটকরা বুকিং বাতিল করতে পারেন বলে আশঙ্কা হোটেল মালিকদের। সব মিলিয়ে উইকএন্ডে পর্যটন ব্যবসায় যে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।