মায়ের সরকারি চাকরির লোভে ভাড়াটে খুনি দিয়ে মাকেই শেষ করল মেয়ে! জয়পুরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা

মায়ের সরকারি চাকরি এবং সম্পত্তির লোভ একুশ শতকের সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজস্থানের জয়পুর থেকে উঠে আসা এক নৃশংস ঘটনায় হতবাক পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মায়ের মৃত্যু হলে সহানুভূতির ভিত্তিতে সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে—এই লালসায় ২৩ বছর বয়সি তরুণী আয়ুষী শর্মা তার ৪৫ বছর বয়সি মা নীরজ শর্মাকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করিয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি গত ৩ জুলাইয়ের। নীরজ শর্মা একটি আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এই চাকরিটি পেয়েছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, আয়ুষী এই চাকরির ওপর নজর রেখেছিল এবং সম্পত্তির ভাগ নিয়েও মায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। নিজের কাকা মোহন স্বরূপ এবং তুতো দাদা বলরাম ওরফে রবির পরামর্শে আয়ুষী মাকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করে। ৭ লক্ষ টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খুনিদের নিযুক্ত করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ জুলাই ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নামিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্করপিও গাড়ি চাপা দিয়ে নীরজকে খুন করা হয়। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে আয়ুষী সহজেই সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরির আবেদন করতে পারে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্তে নেমে পুলিশ পুরো ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করে দেয়। নীরজের ভাই রাকেশ কুমার শর্মা অভিযোগ করেছিলেন যে, নিহতের মেয়ে আয়ুষী তাকে মাঝেমধ্যেই হেনস্থা করত এবং প্রাণনাশের হুমকিও দিত।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বিশাল দল। আকাশ শর্মা গাড়ি চালাচ্ছিল, পাশে ছিল অরবিন্দ শর্মা। মোহিত শর্মা লাগাতার নীরজের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল এবং রোহিত জাটভ ছিল মোটরসাইকেলে। খুনের পর তারা গাড়ি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখন পর্যন্ত আয়ুষীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী বলরাম ওরফে রবি এখনো পলাতক, যার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। জেরায় আয়ুষী নিজের দোষ স্বীকার করেছে। মায়ের সরকারি চাকরির লোভে এক মেয়ের এই বীভৎস রূপ দেখে আতঙ্কিত দেশবাসী।