ওটিটি থেকে হঠাৎ সরলো দিলজিতের ‘সতলুজ’! ছবির পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা সুখবীর বাদলের

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সেন্সর বোর্ডের বাধার মুখে পড়ে মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত সিনেমা ‘সতলুজ’। শিখ সম্প্রদায়ের একটি স্পর্শকাতর ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। শুরুতে ছবিটির নাম ছিল ‘পঞ্জাব ৯৫’, কিন্তু সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে পড়ে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সতলুজ’। সবরকম শর্ত মেনে সার্টিফিকেট পাওয়ার পর জি ফাইভ (ZEE5) প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলেও, মাত্র দুই দিনের মাথায় রহস্যজনকভাবে ওটিটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় সিনেমাটি।

এই ঘটনাটি চলচ্চিত্র প্রেমী ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়ায় বিষয়টি এখন বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে সিনেমাটির পাশে দাঁড়িয়েছে শিরোমণি অকালি দল।

সুখবীর সিংহ বাদলের বড় ঘোষণা
শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদল এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিলেও মানুষের অগোচরে এই সত্যকে চাপা দেওয়া যাবে না। শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি (SGPC)-এর সহযোগিতায় তিনি ঘোষণা করেছেন যে, সিনেমাটি এখন পঞ্জাবের প্রতিটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শন করা হবে।

কেন এই সিনেমা এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই ছবিটি বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিংহ খালরার জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। খালরা সেই ব্যক্তি ছিলেন, যিনি পঞ্জাবে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ সত্য উন্মোচন করেছিলেন। সুখবীর সিংহ বাদলের মতে, এই সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা মানে পঞ্জাবের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্ধকার অধ্যায়কে পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা। তিনি মনে করেন, শিখ সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক অপরাধের এই গল্প প্রতিটি ভারতীয়র জানা প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি টুইট বার্তার মাধ্যমেও সুখবীর সিংহ বাদল এই ছবির সমর্থনে সরব হয়েছেন। কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বাধার কাছে মাথা নত না করে, সিনেমাটিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অকালি দল এখন কোমর বেঁধে নেমেছে। এর ফলে গ্রাম্য এলাকায় সিনেমাটি প্রদর্শনের মাধ্যমে যশবন্ত সিংহ খালরার লড়াইয়ের ইতিহাসকে নতুন করে প্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।