স্বামীকে খুঁজতে বেরিয়ে নিখোঁজ, সকালে মিলল আদিবাসী মহিলার মৃতদেহ! পূর্ব বর্ধমানে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড়

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানা এলাকায় এক আদিবাসী গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকা ওই মহিলার মৃতদেহ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি জমির ধার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম আজিজুল শেখ ও ভদাই শেখ। মৃতার স্বামীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন বিকেলে তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং আজিজুল একত্রে মদ্যপান করেছিলেন। এরপর তিনি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান এবং রাতে আর ফেরেননি। ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে না পেয়ে গৃহবধূ তাঁকে খুঁজতে বের হন এবং এরপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। মঙ্গলবার সকালে জমি সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা পরিকল্পিত খুনের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনায় দেওয়ানদিঘি থানায় কেস নম্বর ১৪২/২০২৬ (তারিখ ০৭.০৭.২০২৬) অনুযায়ী ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১), ২৩৮ ও ৭০(১) ধারায় অর্থাৎ গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে তাঁদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তের খাতিরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নির্যাতিতার ভাই অভিযুক্ত আজিজুলের ভূমিকা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।