বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে খতম মূল অভিযুক্ত! জিরো টলারেন্স নীতিতে বড় বার্তা দিল পুলিশ?

বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে যখন ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ, তখনই ঘটে বিপত্তি। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রভাস এবং পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা ও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে চলছে জোর চর্চা।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন এই কঠোর পদক্ষেপের। তিনি বলেন, “বাংলায় সম্ভবত এই প্রথমবার এমন এনকাউন্টার হলো। আমরাও এনকাউন্টার চাই না, কিন্তু যখন উত্তরপ্রদেশ বা বিহারে এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে আছে, তখন আমাদের রাজ্যে দুষ্কৃতীদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছিল। জিরো টলারেন্স নীতি যে কার্যকর করা হয়েছে, তা আজ প্রমাণিত। অপরাধ দমনে পুলিশের হাত আর কাঁপবে না, সরকারও পিছপা হবে না।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার প্রশংসাও শোনা গেছে সরকারি মহলে।

উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার অর্থাৎ ৯ জুলাই নতুন করে আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন রাতে টাওয়ার লোকেশন ডাম্প করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনার সঙ্গে প্রভাস মণ্ডল ছাড়াও আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং চতুর্থ অভিযুক্ত কবীর মোল্লা—এই চারজন সরাসরি যুক্ত ছিল। কবীর মোল্লাকে বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর থেকেই সে বারবার বিভ্রান্তিকর বয়ান দিয়ে তদন্তকারীদের বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছিল। পুলিশের ধারণা, অপরাধের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সূত্রগুলো খুঁজে বের করতেই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ঘটে যায় এনকাউন্টারের ঘটনা। সরকারি ও বিরোধী দুই পক্ষই দাবি করছে যে, অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। এদিকে, বারুইপুরের এই ঘটনার আবহে আবহাওয়া দপ্তর থেকেও দুঃসংবাদ এসেছে; আগামী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বারুইপুর কাণ্ড এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।