সংরক্ষণ ও ধর্মান্তরণ বিতর্ক: মাদ্রাজ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে তামিলনাড়ু

ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী অনগ্রসর শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তিদের সংরক্ষণের সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত মামলায় বড় আইনি লড়াইয়ের পথে তামিলনাড়ু সরকার। মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) দাখিল করেছে। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করেছিল।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? তামিলনাড়ু সরকার ২০২৪ সালে একটি সরকারি আদেশ জারি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, অনগ্রসর শ্রেণী (BC), অতি অনগ্রসর শ্রেণী (MBC) বা তফসিলি জাতিভুক্ত কোনো ব্যক্তি যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তবে তাঁকে ‘অনগ্রসর মুসলিম’ শ্রেণীভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নির্দিষ্ট সাতটি মুসলিম সম্প্রদায়ের (যেমন—লাব্বাই, আনসার, সৈয়দ ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে শংসাপত্র দেওয়া হবে। এই আদেশের মূল লক্ষ্য ছিল, ধর্মের পরিবর্তনের কারণে কেউ যেন সংরক্ষিত সুবিধার অধিকার না হারান।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি পিবি বালাজীর ডিভিশন বেঞ্চ এই সরকারি আদেশটিকে বাতিল করে দেয়। হাইকোর্টের মতে, এই আদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের পূর্বের বিভিন্ন বিচারিক সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। বেঞ্চের বক্তব্য ছিল, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি কেবল মুসলিম হিসেবেই পরিচিত হতে পারেন, কিন্তু সংরক্ষণের নতুন শংসাপত্র প্রদান সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। সমীর আহমেদ নামে এক ব্যক্তির পিটিশনের প্রেক্ষিতেই এই রায় দিয়েছিল আদালত। সমীর হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলামে রূপান্তরিত হওয়ার পর ‘লাব্বাই’ সম্প্রদায়ের সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেছিলেন, যা তহসিলদার প্রত্যাখ্যান করলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
রাজ্য সরকারের যুক্তি: সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আপিলে রাজ্য সরকার জোরালো যুক্তি দিয়েছে যে, এই আদেশ কোনো স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নয়। তামিলনাড়ু অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের সুপারিশ ও ব্যাপক আলোচনার পরেই এটি জারি করা হয়েছিল। সরকারের মতে, যাঁরা বংশগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, ধর্ম পরিবর্তনের ফলে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: অ্যাডভোকেট বি. করুণাকরণের মাধ্যমে দাখিল করা এই এসএলপি (SLP) এখন সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনায় রয়েছে। সংরক্ষিত সুবিধা ও ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই দেশের অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।