বারুইপুর কাণ্ডে চরম হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের! দোষীদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা তুঙ্গে

বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। একটি নাবালিকার ওপর বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশি তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্তসহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক রং বিচার না করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ প্রশাসনকে নিরন্তর নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “একজন দোষীও ছাড় পাবে না। রাজ্যে কোনো অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না।” একইসঙ্গে ঘটনার দিন মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে ‘কমিউনাল অ্যাঙ্গেল’ বা সাম্প্রদায়িক যোগসূত্রের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি যাতে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বারুইপুরের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই অপরাধীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে।” এদিন তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, “আইন হাতে তুলে নেবেন না। প্রশাসনকে তাদের কাজ করতে দিন। তবে যদি প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো গাফিলতি দেখা যায়, তবে বিজেপি রাজপথ ছাড়বে না।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ৩ জনের জেরা চলছে। তারা ঘটনার দিন ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় এসেছিল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বারুইপুর পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী দল দুজনেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যেখানে প্রশাসনিক কঠোরতার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আপাতত গোটা এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। নাবালিকার পরিবারের দাবি, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে যেন দোষীদের ফাঁসির সাজা নিশ্চিত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।