শান্তিনিকেতনের অদূরেই লুকিয়ে বন্যপ্রাণের স্বর্গ! বল্লভপুর অভয়ারণ্যে এখন হরিণের মেলা

শান্তিনিকেতনের লালমাটির হাতছানি উপেক্ষা করা দায়। রবীন্দ্রস্মৃতিধন্য বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বেই প্রকৃতি তার অপরূপ রূপ সাজিয়ে রেখেছে এক অভয়ারণ্যে—তার নাম বল্লভপুর অভয়ারণ্য। সবুজে ঘেরা এই জঙ্গল এখন পর্যটকদের জন্য এক অনবদ্য ভ্রমণের ঠিকানা। শান্তিনিকেতনের কোলাহল থেকে কিছুটা সময় নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে বল্লভপুর হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য।

বল্লভপুর অভয়ারণ্যের প্রধান আকর্ষণ এর অবাধ বিচরণকারী হরিণের দল। বন দফতরের নিবিড় পরিচর্যা ও খাদ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে এখানে হরিণের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। একসময় অতিরিক্ত হরিণ বক্সার মতো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সংখ্যা কমে গেলেও, বর্তমান পরিসংখ্যান পর্যটকদের জন্য এক দারুণ আনন্দের খবর। অভয়ারণ্যটি গড়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। একদা প্রাকৃতিক শালবনের এই এলাকায় ১৯৫৪-৫৫ সাল নাগাদ আকাশমণি, শিশু এবং সোনাঝুড়ি গাছ লাগানো শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে এই বনভূমি ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ হিসেবে ঘোষিত হয় এবং ১৯৬৭-৬৮ সাল নাগাদ এখানে ব্ল্যাকবাক ও চিতল হরিণ ছাড়া হয়। কালক্রমে চিতল হরিণদের বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং ১৯৭৭ সালে ২.০২১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভয়ারণ্যটি রূপ পায়।

অভয়ারণ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এর ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে তিনটি বিশাল ঝিল। ঝিলগুলোর অবস্থান এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ঝিল অভয়ারণ্যের প্রবেশপথের কাছে, একটি প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রের কাছে এবং অন্যটি একেবারে হৃদকেন্দ্রে অবস্থিত। শুধু হরিণদের বিচরণক্ষেত্রটিই প্রায় ৪২ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।

শান্তিনিকেতন থেকে এখানে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। বোলপুর স্টেশন বা শান্তিনিকেতনের যে কোনো প্রান্ত থেকে টোটো ভাড়া করে খুব সহজেই এই অভয়ারণ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। নামমাত্র মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে পুরো অভয়ারণ্য ঘুরে দেখার সুযোগ মেলে এখানে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির খুব কাছে থেকে কয়েকটা ঘণ্টা কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। বোলপুর ভ্রমণের তালিকায় যারা শান্তিনিকেতন, কোপাই বা সোনাঝুড়ি হাট রেখেছেন, তারা আগামী দিনে বল্লভপুর অভয়ারণ্যের এই বনকথা নিজ চোখে দেখার অভিজ্ঞতা মিস করবেন না। প্রকৃতির শান্ত রূপ এবং হরিণদের সাথে কাটানো সেই মুহূর্ত আপনার ভ্রমণ ডায়েরিতে এক বিশেষ জায়গা করে নেবে। তাই শান্তিনিকেতন ভ্রমণে এলে বল্লভপুরের সবুজ আবহে একবার ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল।