ফের স্বাভাবিক ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত, পর্যটকদের জন্য সুখবর দিল চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্ট!

প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল ভারত-বাংলাদেশ পর্যটন ব্যবস্থা। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জেরে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর, কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পুনরায় শুরু হলো ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পরিষেবা। এই খবরে দুই প্রান্তের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও সীমান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে পর্যটন ভিসা কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে কেবল পর্যটকরাই অসুবিধায় পড়েননি, বরং সীমান্তের অর্থনৈতিক চাকাও থমকে গিয়েছিল। গত ২৮ জুন, ২০২৬ থেকে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা পরিষেবা চালুর ঘোষণা করে। সেই ঘোষণার রেশ ধরেই সোমবার বিকেলে এই চেকপোস্ট দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশের পর্যটকদের ভারতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের মাটিতে পা রেখে বহু পর্যটক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটক মনির হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ভিসা না পাওয়ার কারণে আমরা ভারতে আসতে পারিনি। এখন ভিসা চালু হওয়ায় আমাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। আজ আমরা আজমের শরিফে জিয়ারত করতে যাচ্ছি।” দুই দেশের মধ্যে মৈত্রীর এই বন্ধন এবং পর্যটন করিডোর পুনরায় সচল হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটেছে। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার, হোটেল ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের আনাগোনা থমকে যাওয়ায় তারা চরম সংকটে ছিলেন। এখন আবারও আগের মতো যাতায়াতের কোলাহলে চেকপোস্ট সরগরম হয়ে উঠবে বলে সকলেরই প্রত্যাশা।

উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলে ফের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা চালু হওয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন শিল্পের জন্য বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল পর্যটনই নয়, বরং চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক যাতায়াতও নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।