হার্টের অসুখ দূরে রাখতে রোজ ডার্ক চকলেট? জেনে নিন চকলেটের গুণাগুণ ও অজানা তথ্য!

প্রতি বছর ৭ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব চকলেট দিবস’। ছোট থেকে বড়—চকলেটের টানে জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। উপহার হিসেবে হোক কিংবা মন ভালো করার টোটকা, চকলেটের বিকল্প নেই। তবে এই বিশেষ দিনটি কেন ৭ জুলাই পালিত হয়, তা কি জানেন? ইতিহাস বলছে, এই দিনটি প্রথম ইউরোপে চকলেট দিবস হিসেবে পালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

চকলেটের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। প্রায় ২,৫০০ বছর আগে আমেরিকার রেইনফরেস্টে কোকো গাছের বীজ থেকে প্রথম চকলেট তৈরির প্রথা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এটি শুধু মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৫২৮ সালে স্পেন যখন মেক্সিকো জয় করে, তখন স্পেনের রাজা প্রচুর কোকো বিন ও চকলেট তৈরির সরঞ্জাম নিজের দেশে নিয়ে যান। সেখান থেকেই চকলেট স্প্যানিশ আভিজাত্যের অন্যতম ফ্যাশনেবল পানীয় হয়ে ওঠে।

শুরুর দিকে চকলেটের স্বাদ ছিল কিছুটা তিক্ত ও কড়া। সেই সময় মধু, ভ্যানিলা, চিনি ও দারুচিনির সংমিশ্রণে এটি পানীয় হিসেবে তৈরি হতো। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার হ্যান্স স্লোন চকলেট থেকে এক বিশেষ পানীয় তৈরি করেন, যা আজ বিশ্বখ্যাত ‘ক্যাডবেরি মিল্ক চকলেট’ হিসেবে পরিচিত। উনিশ ও বিংশ শতকে চকলেটের এই জনপ্রিয়তা বাণিজ্যিক রূপ পায়। ১৮৬০ সালে ‘নেসলে’-এর মতো বিশাল কোম্পানির পথচলা শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে ক্যাডবেরি ইংল্যান্ডে লঞ্চ হয় এবং আজ ‘হার্ষে’-র মতো ব্র্যান্ড বিশ্ববাজারে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

চকলেট কেবল স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ কার্যকর। চিকিৎসকদের মতে, চকলেটে থাকা প্রাকৃতিক রাসায়নিক আমাদের মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে। চকলেটের ‘ট্রিপটোফ্যান’ উপাদান মস্তিষ্কে এন্ডোরফিনের মাত্রা বাড়িয়ে আমাদের মুহূর্তের মধ্যে আনন্দিত করে তোলে। এমনকি প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো কিছুরই অতিরিক্ত মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এই বিশ্ব চকলেট দিবসে পরিমিত পরিমাণে প্রিয় চকলেটটি উপভোগ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।