প্রসেনজিতের অন্দরমহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! নেপথ্যে কি বড় কোনো ‘রাজনৈতিক চাল’?

সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতা সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি আচমকা সফর ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ইকো পার্ক ও মিলন মেলার কর্মসূচি শেষ করে শাহ সোজা হাজির হন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে। এই সাক্ষাৎ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যসভার প্রার্থীপদ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

কেন এই সফর? জল্পনা তুঙ্গে: চলতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গের তিনটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ফলে এই সময়ে প্রসেনজিতের বাড়িতে শাহের উপস্থিতিকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। অনেকেরই ধারণা, রাজ্যসভার আসন্ন ভোটে বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে পারে। যদিও এই বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কী বলছেন অমিত শাহ? সব জল্পনায় জল ঢেলে অমিত শাহ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তাঁর এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে। তিনি জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশেষ জনসংযোগ অভিযান’-এর অংশ হিসেবেই তিনি এই সাক্ষাতের আয়োজন করেছিলেন। টুইটে শাহ লিখেছেন, “বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক শ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে আন্তরিক সাক্ষাৎ করলাম। ‘বিশেষ জনসংযোগ অভিযান’-এর অংশ হিসেবে, গত ১২ বছরে মোদী সরকারের ঐতিহাসিক সাফল্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম।”

রাজ্যসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য আসনে রাজ্যসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের ফলে এই আসনগুলি খালি হয়েছে। কমিশনের সূচি অনুযায়ী:

  • বিজ্ঞপ্তি জারি: ৭ জুলাই

  • মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ১৪ জুলাই

  • মনোনয়নপত্র যাচাই: ১৫ জুলাই

  • প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ১৭ জুলাই

এখন দেখার বিষয়, জনসংযোগ অভিযানের দোহাই দিয়েই কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে, নাকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের রাজ্যসভার আঙিনায় পা রাখা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা?