ফুটবল জাদুকরের শেষ বিদায়ে শোকের ছায়া! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানালেন নেইমার

ব্রাজিলীয় ফুটবলের এক বর্ণময় যুগের অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সন্ন্যাস নিলেন সাম্বা জাদুকর নেইমার জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আসরে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে ব্রাজিলের পরাজয়ের পরই আবেগঘন মুহূর্তে বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দেন তিনি। নেইমারের এই অবসরের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নেইমারের এই বিদায় এক অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। ২০১০ সালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ১৬ বছর পর ঠিক সেই একই স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি। নরওয়ের কাছে হার নিশ্চিত জেনেও ম্যাচের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিদায়টি স্মরণীয় করে রাখেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গোল করার পর বিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা ছিল তাঁর স্বভাবসুলভ লড়াকু মানসিকতারই প্রতিফলন।

এবারের বিশ্বকাপটি নেইমারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ছিল কষ্টের। কাফ মাসলে চোটের কারণে টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচে মাঠে নামতে পেরেছিলেন তিনি, তাও পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে। তবে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা ছাপিয়ে দলের অকাল বিদায় তাঁকে বেশি ব্যথিত করেছে। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সেই অধরা কাপের খোঁজে রয়েছে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও জায়গা করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা সমর্থকদের হতাশা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৬ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নেইমার ১৩০টি ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। ৮টি গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ফুটবল সম্রাট পেলেকেও, যা তাঁকে বসিয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে। ৪টি হ্যাটট্রিক এবং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের স্বাদ পাওয়া নেইমারের ফুটবল শৈলী মুগ্ধ করেছে কোটি কোটি মানুষকে। তবে তাঁর একমাত্র আক্ষেপ থেকে গেল—বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ না পাওয়া।

অবসর ঘোষণায় আবেগাপ্লুত নেইমার বলেন, “দেশের জন্য আমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখানেই শেষ। যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আমার পথের শুরু হয়েছিল, সেখানেই আমার সব পথচলা থামল।” চোট-আঘাত তাঁর ক্যারিয়ারে বারবার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, নতুবা হয়তো পরিসংখ্যানের পাতায় নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারতেন তিনি। তবে পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে নেইমার চিরকাল বেঁচে থাকবেন সাম্বা ফুটবলের শিল্পী হিসেবে। তাঁর এই বিদায়ে একটি অধ্যায় শেষ হলো, যা নতুন প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।