জি৫ থেকে সরছে দিলজিতের ‘সলতেজ’! পাঞ্জাবের কণ্ঠরোধ নিয়ে বিস্ফোরক গায়ক

রবিবার জি৫ ওয়েব প্ল্যাটফর্ম থেকে হঠাৎই সরিয়ে দেওয়া হলো দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ছবি ‘সলতেজ’। মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিটির মুক্তি এবং তারপর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যাওয়া নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় বিন্দুমাত্র অবাক হননি খোদ অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে দিলজিৎ সাফ জানিয়েছেন, ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে তা তাঁর আগেই জানা ছিল। গায়কের কথায়, “আমার কাছে খবর ছিল সোমবার ছবিটি সরিয়ে দেওয়া হবে, তবে একদিন আগেই এই ঘটনা ঘটায় কিছুটা অবাক হয়েছি।” দিলজিতের বিস্ফোরক দাবি, “১৯৯৫ সাল থেকে পাঞ্জাবের কণ্ঠস্বর রোধ করে রাখার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা তারই প্রমাণ।”

উল্লেখ্য, মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার আত্মত্যাগের কাহিনি নিয়ে তৈরি এই ছবিটি মুক্তির পর থেকেই নানা মহলে চর্চায় ছিল। তবে দিলজিৎ মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি সরিয়ে নিলেই সত্যকে ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, ইতিমধ্যেই বহু দর্শক ছবিটি দেখে ফেলেছেন এবং অনেকেই এটি ডাউনলোড করে ফেলেছেন। ফলে, কৌশলে কোনো চলচ্চিত্রকে দর্শকের থেকে দূরে রাখা এখন অসম্ভব।

দিলজিৎ আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ছবি তৈরির লড়াইয়ে তিনি বা তাঁর দল কারোর কাছ থেকেই কোনো বাড়তি সমর্থন আশা করেননি। তিনি বলেন, “গত তিন-চার বছর ধরে আমরা এই ছবির মুক্তির জন্য একাই লড়াই করছি। বলিউড বা পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র জগতের কারও কাছেই আমরা সমর্থনের জন্য হাত পাতিনি।” ছবিটির নির্মাণ যে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তাও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। পরিচালক হনি ট্রেহানের এই ছবিটি সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় থেকে সাত বছর সময় লেগেছে। শুটিং চলাকালীন নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘ ১৫-২০ দিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সম্পাদনার কাজ শেষ হওয়ার পরেও নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় ছবিটি প্রায় চার বছর ধরে আটকে ছিল।

দিলজিতের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “খালরার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।” ছবিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ওটিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও, আজ প্রতিটি ঘরেই যশবন্ত সিং খালরার জীবন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দিলজিৎ মনে করেন, সব বাধা কাটিয়ে সত্যের জয় হবেই। ছবি সরানোর এই পদক্ষেপ যেন এখন গায়কের কাছে নতুন করে লড়াইয়ের রসদ জুগিয়েছে। একদিকে যখন শিল্পীরা সৃজনশীল স্বাধীনতার কথা বলছেন, অন্যদিকে এই ধরনের ঘটনা ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সেন্সরশিপ ও রাজনৈতিক চাপের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।