নিহত বারুইপুর! এলাকায় জারি ১৪৪-এর অনুরূপ ১৬৩ ধারা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কড়া নজরদারি

বারুইপুরের অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। জনরোষ ও সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এই নির্দেশের ফলে ওই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে এই মামলার তদন্তভার একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-এর ওপর ন্যস্ত করেছেন। তদন্তের গতি বাড়াতে বেঙ্গল এসটিএফ (STF)-কেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ জনের একটি শক্তিশালী দল এই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে, রাজনীতির উত্তাপও বারুইপুরকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে। তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আজ বারুইপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে পথে দোলা সেনের গাড়ি আটকে দেওয়া নিয়ে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর প্রতিনিধি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অশান্তি ঠেকাতে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব সাফল্য মিলেছে। বারুইপুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও, এই ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। প্রশাসনিক কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ যে কোনো আপস করতে রাজি নয়, তা প্রশাসনিক তৎপরতায় স্পষ্ট। আপাতত বারুইপুরের ঘটনাটি প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।