প্রণামীর টাকা নয়ছয়! তদন্তের মুখে বদ্রীনাথ, সিসিটিভি বিতর্ক ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মাঝেই এবার বিতর্কের শিরোনামে উত্তরাখণ্ডের পবিত্র বদ্রীনাথ ধাম। মন্দিরের প্রণামীর টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠার ঠিক দু’দিন আগেই মন্দিরের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বদলে ফেলার ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছকই রুটিন কাজ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বড়সড় প্রমাণ লোপাটের ছক?
ঠিক কী অভিযোগ? বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (BKTC) এক কর্মীর বিরুদ্ধে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা তছরুপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে জানাজানি হতেই তদন্তের নির্দেশ দেয় মন্দির কমিটি। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগে, গত ১ জুলাই মন্দিরের ৩২টি পুরনো সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে নতুন ক্যামেরা বসানো হয়। এই টাইমিং নিয়েই সন্দেহের তীর উঠেছে মন্দির কর্তৃপক্ষের দিকে।
কী দাবি মন্দির কমিটির? বিতর্ক বাড়তেই আসরে নামেন মন্দির কমিটির সিইও (CEO) সোহান সিং রাঙ্গাদ। তিনি দাবি করেন, এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। তাঁর বয়ান অনুযায়ী:
নতুন ক্যামেরা: এক ভক্ত মন্দিরকে হাই-রেজোলিউশনের আধুনিক নজরদারি ক্যামেরা দান করেছিলেন, সেই কারণেই পুরনো ক্যামেরাগুলো বদলানো হয়েছে।
রেকর্ডিং সুরক্ষিত: সিইও-এর দাবি, পুরনো সিসিটিভির সমস্ত ফুটেজ ডিভিআর (DVR) সিস্টেমে সংরক্ষিত আছে। তদন্তের প্রয়োজনে সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্ত ও বিতর্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ‘রুটিন প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করলেও, নেটিজেন ও ভক্তদের একাংশ এই সাফাইতে সন্তুষ্ট নন। চুরির অভিযোগের ঠিক দু’দিন আগে ক্যামেরা বদলানোর বিষয়টি কাকতালীয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মন্দির কমিটি কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মীর আপ্তসহায়ককে ইতিমধ্যেই অপসারিত করা হয়েছে।
এখন ডিভিআর ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।