‘সভ্যতা-ইতিহাস কিছুই নেই আমেরিকার!’ খামেনির শেষকৃত্য নিয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষের কড়া জবাব দিল তেহরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। সম্প্রতি মাউন্ট রাশমোরে আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য আমেরিকা ইরানকে যেন “এক সপ্তাহের ছুটি” দিয়েছিল।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে আমেরিকার সাথে সমঝোতা করতে মরিয়া। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা ইরানকে ভালোভাবেই জব্দ করেছি। তারা এখন এতই চাপে আছে যে যেকোনো মূল্যে একটা বোঝাপড়ায় আসতে চাইছে। তাদের নেতার শেষকৃত্য চলার সময় আমরা তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম, কারণ আমরা দয়ালু।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তেহরানের কড়া জবাব ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। আর্মেণিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (X) এক পোস্টে কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকার যেমন কোনো নিজস্ব সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মানবোধ নেই, তাই তারা খামেনির প্রতি মানুষের এই গভীর শ্রদ্ধা ও শোক বোঝার ক্ষমতা রাখে না।

ইরানি দূতাবাসের ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “মানুষকে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু তার আদর্শকে নয়। আপনারা নেতাকে হত্যা করেছেন ঠিকই, কিন্তু আপনারা আসলে একটি আতরের শিশি ভেঙেছেন, যার সুগন্ধ এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।” শোকাতুর জনসমাগমকে উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অমানবিক’ বলেও অভিহিত করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সম্প্রতি ৪ থেকে ৯ জুলাই তাঁর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে। তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁর দেহ সমাধিস্থ করার কথা রয়েছে। এই বিশাল আয়োজনকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, আর ঠিক সেই সময়েই ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের পুরোনো শত্রুতাকে আরও উসকে দিল।