দানপাত্র থেকে অলঙ্কার গায়েব? বদ্রীনাথ মন্দিরের অন্দরে বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ

অযোধ্যা রাম মন্দিরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পবিত্র বদ্রীনাথ ধামে দানপাত্রের অর্থ এবং অলঙ্কার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠল। হিন্দুদের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এবার সরব হয়েছে ধর্মীয় সংগঠন ‘ভৈরব সেনা’। তারা বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির সমিতির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে মন্দির সমিতির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহায়কের দিকে। অভিযোগ, দানপাত্রের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্দির ট্রাস্টের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সোহন সিং রাঙ্গর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহায়কের পাশাপাশি মন্দিরের সমস্ত কর্মচারীকে ‘কারণ দর্শানোর’ (Show Cause) নোটিস ধরানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের কাছ থেকে লিখিত জবাব তলব করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মন্দিরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি বা পুলিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভৈরব সেনার প্রধান সন্দীপ খত্রী সরাসরি মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজের বেশ কিছু ছবি ও প্রমাণ জমা দিয়েছেন। সেইসব ফুটেজে দানপাত্র দেখাশোনাকারী কর্মীদের সন্দেহজনক গতিবিধি স্পষ্ট ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গা—মন্দিরের দানপাত্র থেকে এভাবে অর্থ ও অলঙ্কার লোপাটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, অযোধ্যার রাম মন্দিরে সাম্প্রতিক দান চুরির ঘটনার পর বদ্রীনাথের এই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অযোধ্যার ওই ঘটনায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিগত কয়েক দশক ধরে দেশের প্রধান তীর্থস্থানগুলির পরিচালনার ভার মূলত গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠদের হাতেই রয়েছে। পরপর দুটি বড় মন্দিরে এমন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বদ্রীনাথের এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে চলা এক বৃহত্তর সিন্ডিকেটের কারসাজি কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার নিষ্পত্তি না হলে মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর থেকে ভক্তদের আস্থা সরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।