তৃণমূল ছাড়তেই সরব কাকলি! ৩ দশক আগের রক্তক্ষয়ী ঘটনার বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ৬ দফা দাবি

ধর্মতলায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের পুলিশি গুলিবর্ষণের ঘটনার ৩৩ বছর অতিক্রান্ত। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার বিচার অধরা। এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে সেই ঘটনার প্রকৃত বিচারের দাবি জানালেন। তবে চিঠিতে তিনি কেবল বামফ্রন্ট আমলের পুলিশি বর্বরতার সমালোচনাই করেননি, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক ‘গোপন আঁতাত’-এর অভিযোগ তুলেছেন।

মমতা সরকারের বিরুদ্ধে শাণিত আক্রমণ: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠিতে পূর্বতন মমতা সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ২০১১ সালে শহিদদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং মানুষের আবেগকে হাতিয়ার করেই তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর মমতা সরকার অভিযুক্ত আমলা, পুলিশ আধিকারিক এবং বাম নেতাদের আড়াল করতে এক ‘গোপন রাজনৈতিক সমঝোতা’ করেছিল।

সাংসদের অভিযোগ, ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রসচিব পদে থাকা মণীশ গুপ্তকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বদলে তৃণমূল সরকার তাঁকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও পরবর্তীকালে রাজ্যসভার সাংসদ করে পুরস্কৃত করেছিল। এছাড়া ফাইল উধাও হয়ে যাওয়া বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-বিমান বসুর মতো নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে না পড়ার বিষয়টিও তিনি চিঠিতে তুলে ধরেছেন।

সুশান্ত কমিশন ও জালালাওয়ালবাগের তুলনা: ২০১৪ সালের বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টের উল্লেখ করে কাকলি জানান, তৎকালীন পুলিশি গুলিবর্ষণ ছিল ‘অপ্ররোচিত, অসাংবিধানিক ও অমানবিক’। ওই কমিশন ঘটনাটিকে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছিল। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এই পুলিশি অ্যাকশনের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৬ দফা দাবি: বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি দ্রুত হস্তক্ষেপে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন: ১. একুশে জুলাইয়ের মামলাটি পুনরায় খুলে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা। ২. জ্যোতি বসু আমলের চিহ্নিত পুলিশ আধিকারিক ও আমলাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা। ৩. চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা এবং দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। ৪. আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্যে ফরেনসিক পুনর্তদন্ত করা। ৫. শহিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেওয়া। ৬. একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

পরিশেষে সাংসদের হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকার যদি এবারও বিচার না করতে পারে, তবে মানুষ নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করবে যে পূর্বতন তৃণমূল সরকার আসলে বামফ্রন্টের অপরাধীদের আড়াল করতেই যোগসাজশ করেছিল, যা শহিদদের স্মৃতির প্রতি এক চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা।