আইনি জটিলতায় ব্যাকফুটে সুমিত রায়! অভিষেককে রক্ষাকবচ দিলেও মুখ ফেরাল হাইকোর্ট

বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি স্বস্তি বজায় থাকল। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ ১৭ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। তবে একই মামলায় উল্টো ছবি দেখা গেল অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের ক্ষেত্রে। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেও কোনো সুরাহা পেলেন না তিনি, ফলে তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা এখন চরমে।

হাইকোর্টে অভিষেকের স্বস্তি: শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চে অভিষেকের মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, যেহেতু বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মামলাটির বিস্তারিত শুনানি হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে রয়েছেন, তাই আগামী ১৪ জুলাই তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত অভিষেকের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন বিচারপতি চন্দ অভিষেককে সিআইডির তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, আগামী তিন সপ্তাহ তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। সেই নির্দেশই এদিন ১৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

ফাঁপড়ে আপ্তসহায়ক সুমিত রায়: অভিষেকের ক্ষেত্রে স্বস্তি মিললেও, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনটি শুনতেই রাজি হলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের সাফ কথা, এই মামলার শুনানি হবে রেগুলার বেঞ্চেই। এর আগে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত অসুস্থ থাকায় মামলাটির গতি থমকে গিয়েছিল, এরপর অন্য বিচারপতিরাও এটি শুনতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় সুমিতের আইনি লড়াই কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

কেন বিপাকে সুমিত?

  • গ্রেফতারি পরোয়ানা: গত ২১ জুন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

  • লুক-আউট নোটিশ: সিআইডি ইতিমধ্যে তাঁর নামে লুক-আউট নোটিশ জারি করেছে।

  • নতুন এফআইআর: শালবনির পাশাপাশি ডেবরা থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা রুজু হয়েছে।

  • নিখোঁজ সুমিত: পরোয়ানা জারির পর থেকেই সুমিত রায়ের হদিশ মিলছে না, যা তদন্তকারীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তের মোড়: অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রির একটি বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শালবনি থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে জলের কারখানা গড়ার নামে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে কর্তৃপক্ষ। একদিকে হাইকোর্টের বেঞ্চ পরিবর্তন এবং অন্যদিকে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সুমিতের গ্রেফতারি এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।