তহবিল তছরুপে আরও কঠোর প্রশাসন! অভিযুক্তদের বাড়ি ও আস্তানায় তল্লাশি, বিপুল অর্থ উদ্ধার

রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্রের বিরুদ্ধে এবার বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ADA)। সোহাওয়াল তহসিলের বানবীরপুর গ্রামে লবকুশের স্ত্রীর নামে তৈরি একটি অবৈধ বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করেছে।

আইনি প্যাঁচে অভিযুক্তরা: অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। লবকুশের স্ত্রী সুপ্রিয়ার নামে জমিটি কেনা হলেও নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। শুধু বাড়ি নয়, পুলিশি তদন্তে অভিযুক্তদের আর্থিক জালিয়াতর নতুন নতুন নথিপত্র সামনে আসছে।

পুলিশের জালে জালিয়াত চক্র: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • নগদ অর্থ: অবিনাশ শুক্লা, করুণেশ পান্ডে, লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্রসহ অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে।

  • মূল্যবান সামগ্রী: ১১ গ্রাম সোনা, ৩৭৫ গ্রাম রুপা এবং ১,১২১ মার্কিন ডলার।

  • অন্যান্য: একটি যোগ কেন্দ্র থেকে ‘রামরাজ্য কোষ’ লেখা একটি দানবাক্স ও পেটিএম (Paytm) কিউআর কোড (QR Code) জব্দ করা হয়েছে। এই যোগ কেন্দ্রে অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা প্রায় এক দশক ধরে আস্তানা গেড়েছিলেন।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: গত ৭ই জুন রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসে উত্তর প্রদেশ সরকার। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৫শে জুন এফআইআর দায়ের করা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে, কারণ তাঁর থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

অযোধ্যার মতো পবিত্র তীর্থস্থানে দানবাক্স জালিয়াতির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন এখন প্রতিটি অভিযুক্তের সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছে এবং অবৈধ নির্মাণ ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।