উৎপাদন থেকে পরিষেবা—সবক্ষেত্রেই জয়জয়কার! জুন ২০২৬-এর তথ্য আত্মবিশ্বাস বাড়াল ভারতবাসীর

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহেও ভারতীয় অর্থনীতির অদম্য গতি বজায় রয়েছে। সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ভারত কেবল তার প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখেনি, বরং বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

অর্থনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান:

  • জিডিপি বৃদ্ধি: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭%। বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে এই প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হয়ে ৭.৮%-এ পৌঁছায়, যা আগের বছরের ৭.০% থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

  • উৎপাদন ও পরিষেবা খাত: জুন মাসে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (PMI) ৫৪.২ এবং পরিষেবা খাতের পিএমআই ৫৯.৮-এ পৌঁছেছে। টানা ৩৭ মাস ধরে উৎপাদন সূচকের ৫০-এর উপরে থাকা দেশের শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামোর প্রমাণ দেয়।

  • শিল্প উৎপাদন (IIP): মে ২০২৬-এ শিল্প উৎপাদনের হার বেড়ে হয়েছে ৫.১%, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে মোটর वाहन (১৪.৫%) এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম (২০.৮%) খাতের বৃদ্ধি অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করেছে।

বিনিয়োগ ও রাজস্ব আয়ের জোয়ার: ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ব্যবসায়ী আস্থা যে অটুট রয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কর সংগ্রহ ও বিনিয়োগে। ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকার জিএসটি আদায় এবং সরকারের মূলধনী ব্যয়ের (Capex) বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশজুড়ে বড় ধরনের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এপ্রিল-মে ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের মূলধনী ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫১ লক্ষ কোটি টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

কেন এই অগ্রগতি? অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন গ্রাহক সংযোজন, রপ্তানি চাহিদার বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ভোক্তা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ভারতের এই অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান কারিগর। রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন বিক্রয় এবং ক্যাপিটাল গুডস (মূলধনী পণ্য) উৎপাদনের ১২.৯% বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ভারতে নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পস্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারত যেভাবে উন্নতির পথে হাঁটছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।