জাপানের সঙ্গে ভারতের বড় চুক্তি! সেমিকন্ডাক্টর থেকে প্রতিরক্ষা—মোদি-তাকাইচি বৈঠকে একগুচ্ছ ঘোষণা

বর্তমান বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হায়দরাবাদ হাউসে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রনেতা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই দেশের ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন।
প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় নতুন দিগন্ত: বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বর্তমান সময়ে পারস্পরিক বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ। প্রযুক্তি এখন ভারত-জাপান সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।” বৈঠকে মূলত যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে:
সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি: ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে যৌথভাবে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং কোয়ান্টাম গবেষণায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাপ্লাই চেন: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেনকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে কাজ করবে দুই দেশ।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি: পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি।
সম্পর্কের নতুন ভিত: জি-৭ সম্মেলনের রেশ ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত ও জাপান কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, এই শীর্ষ বৈঠক আগামী দিনে এশিয়ার শক্তিবিন্যাসে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের মোকাবিলায় ভারত ও জাপানের এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Indo-Pacific) নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।