‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বড় জয়! মাওবাদীদের অস্ত্র তৈরির ইউনিট ধ্বংস করল সিআরপিএফ ও গড়চিরোলি পুলিশ

মহারাষ্ট্রের মাওবাদী উপদ্রুত জেলা গড়চিরোলির ঘন জঙ্গলে এক বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্র তৈরির ইউনিট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকারের নেওয়া কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ ও ২৭ জুন। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে খবর আসে যে, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড় সীমান্তের কাছে বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীরা গোপনে অস্ত্র তৈরির এক বিশাল পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা বাহিনী এক নিখুঁত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। গড়চিরোলি পুলিশের ছয়টি দুর্ধর্ষ টিম, প্রানহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিট, বোম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সি-৬০ কমান্ডোরা যৌথভাবে এই অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
জঙ্গলের অত্যন্ত দুর্গম এবং বিপজ্জনক এলাকায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই গোপন ইউনিটের হদিস পায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কর্মীরা মাওবাদীদের আধুনিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামের পাহাড় দেখে চমকে যান। সেখানে মাওবাদীরা একটি ভারী লেদ মেশিনসহ প্রচুর পরিমাণে লোহা, ইস্পাত এবং অস্ত্র তৈরির প্রায় ৫ থেকে ৬ টন কাঁচামাল মজুত করে রেখেছিল। এছাড়া অস্ত্রশস্ত্র তৈরির যাবতীয় আধুনিক সরঞ্জামও সেখানে উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নিরাপত্তার খাতিরে এবং মাওবাদীদের পুনরায় তা ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে, সমস্ত ভারী মেশিনপত্র ও কাঁচামাল ঘটনাস্থলেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও ভেঙে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গড়চিরোলি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অস্ত্র তৈরির ইউনিটটি মাওবাদীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে মাওবাদীদের অভ্যন্তরীণ শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেল। তারা মূলত ওই অঞ্চলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজেরাই অস্ত্র তৈরি করছিল।
পুলিশের এই সফল অভিযানের পর ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান আরও বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গলের আনাচে-কানাচে মাওবাদীদের আরও কোনো ডেরা রয়েছে কি না, তার সন্ধানে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। মাওবাদী সমস্যার সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে মহারাষ্ট্র প্রশাসন যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এই অভিযান তারই প্রতিফলন। পুলিশের এই সাহস ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনিক মহল। এই অভিযানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।