দিল্লিতে আকাশছোঁয়া তাপমাত্রা ৫৩.৫ ডিগ্রি! গরমে গলছে রাজধানী, তবু কেন তাপপ্রবাহ নয়?

প্রচণ্ড দাবদাহে নাজেহাল অবস্থা জাতীয় রাজধানী দিল্লির। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ দিল্লির ‘ফিলস লাইক’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৫৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও বিভিন্ন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রেকর্ড করা প্রকৃত তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে, তবুও ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে দিল্লিবাসীর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে দুটি বিপরীতমুখী আবহাওয়া পরিস্থিতির সংঘাত। একদিকে পাকিস্তান থেকে ধেয়ে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু, অন্যদিকে আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্রতাযুক্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অনুপ্রবেশ। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই গরমের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। শুষ্ক গরম বাতাস দিনের তাপমাত্রা যেমন বাড়িয়ে রেখেছে, তেমনই বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য অনুভূত তাপমাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ‘স্কাইমেট ওয়েদার’-এর বিশেষজ্ঞ মহেশ পালাওয়াত জানান, বিপরীত বৈশিষ্ট্যের এই দুই বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষে আকাশে মেঘের সঞ্চার হলেও, তা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের জন্য যথেষ্ট নয়। বিকেলের দিকে মেঘ জমলেও তা বর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে আর্দ্রতা আরও বাড়াচ্ছে অস্বস্তি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার আগেই ভ্যাপসা গরমে স্থবির হয়ে পড়ছে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিল্লির সাফদরজং-এ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পালামে ৪১.০ ডিগ্রি, লোধি রোডে ৪০.১ ডিগ্রি এবং আয়ানগরে ৪০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর রিজ এলাকায় পারদ ছুঁয়েছে ৪১.৫ ডিগ্রি। শহরের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৪.৮ ডিগ্রি বেশি থাকলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘তাপপ্রবাহ’ বা ‘হিটওয়েভ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

আইএমডি-র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপপ্রবাহ ঘোষণা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার অন্তত দুটি আবহাওয়া কেন্দ্রে তাপমাত্রার মানদণ্ড পূরণ হতে হয়। মঙ্গলবার হরিয়ানা-চণ্ডীগড়-দিল্লি উপঅঞ্চলের মাত্র একটি কেন্দ্রে সেই মানদণ্ড পূরণ হওয়ায়, প্রযুক্তিগতভাবে রাজধানীতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদিও কিছু এলাকায় সামান্য বৃষ্টির ছিটেফোঁটা দেখা গিয়েছে, কিন্তু তা তীব্র দাবদাহের অস্বস্তি কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

দিল্লি এখন কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর বসে রয়েছে। আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, পরিস্থিতির দ্রুত কোনো পরিবর্তন না হলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। বাইরে বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের পক্ষে। এই চরম গরমে শরীরচর্চা থেকে শুরু করে বাইরের কাজকর্ম যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।