টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি, বাংলাদেশে পুরোহিতের ওপর বর্বর হামলা

রাজধানীর নারিন্দা এলাকায় এক হিন্দু পুরোহিত ও আইনের ছাত্রের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবকের নাম সুভাষ দেউড়ি (২৫), যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে কর্মরত এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের ছাত্র। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত: পরিবার ও সহপাঠীদের অভিযোগ, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওয়ারীর ভাড়া বাসা থেকে সুভাষ নিখোঁজ হন। এরপর রাত আড়াইটা নাগাদ সুভাষের ফোন থেকে তাঁর পরিবারের কাছে কল আসে। সুভাষের বোন জয়া দেউড়ি জানান, ভাই কান্নাকাটি করে তাঁকে জানায় যে, দ্রুত টাকা না পাঠালে অপহরণকারীরা তাঁকে মেরে ফেলবে। এরপর অপর প্রান্ত থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সুভাষের মুক্তির বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারটি অনেক কষ্ট করে ২৬ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে পাঠায়। টাকা পাঠানোর পর থেকেই সুভাষের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বর্বরতার বিবরণ: ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সুভাষের রুমমেট দুর্জয় সাহা তাঁকে নারিন্দার অগ্রণী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। জ্ঞান ফেরার পর সুভাষ জানান, সোমবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগও ছিনিয়ে নিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য: ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান জানান, ঘটনার কথা জানার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সহায়তাসহ সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পৈতৃক বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় হলেও সুভাষ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নারিন্দায় পড়াশোনা ও পুরোহিতের কাজ করছিলেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদকীয় নোট: একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং আইনের ছাত্রের ওপর এমন পরিকল্পিত ও নির্মম হামলা জননিরাপত্তার ওপর এক বড় হুমকি। এ ঘটনার পেছনে কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ আছে কি না, তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।