কলকাতা থেকে সরছে ব্যাঙ্কের মূল বিভাগ! বড়সড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কর্মী সংগঠনের

কলকাতা থেকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা গুটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক। বৈদেশিক বিভাগ সরানোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পরিষেবার মেরুদণ্ড স্বরূপ LCPC (Local Clearing Processing Centre) ও CCPC (Centralized Clearing Processing Centre) কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল ‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।

মূল অভিযোগ কী?
প্রতিবাদী ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে কলকাতার গুরুত্ব কমিয়ে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ভিন রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বৈদেশিক লেনদেনের বিভাগ কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবার অ্যাকাউন্ট ওপেনিং এবং চেকের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিভাগগুলি সরিয়ে নেওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়বে। সংগঠনের দাবি, পরিষেবা কেন্দ্রগুলি এভাবে সরিয়ে নিলে স্থানীয় স্তরের চেক ক্লিয়ারেন্স ও গ্রাহক পরিষেবায় বিশাল বিলম্ব ঘটবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি:
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রাজ্যের ব্যাঙ্কিং কাঠামোকে বাঁচাতে এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মতে, ব্যাঙ্কের এই প্রশাসনিক রদবদল কেবল কর্মীদের জীবিকার ওপর আঘাত নয়, এটি বাংলার আর্থিক স্বার্থের পরিপন্থী। ‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন তাঁরা।

প্রতিবাদীদের সুর অনুযায়ী, কলকাতা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম প্রধান আর্থিক হাব। অথচ একের পর এক বিভাগ সরিয়ে নেওয়ায় শহরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব লঘু করার এক গোপন ষড়যন্ত্র চলছে। এই ঘটনায় সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের মানুষের সঞ্চয় ও লেনদেনের সুরক্ষায় দ্রুত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের টনক নড়ানো প্রয়োজন। শুভেন্দু অধিকারীর মতো একজন প্রভাবশালী নেতার দ্বারস্থ হয়ে কর্মীরা চাইছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের স্তরে বিষয়টি উত্থাপন করে এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া রোধ করতে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।