তোলবাজি মামলায় গ্রেফতারের ৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি! আলিপুর আদালতে কী এমন ঘটল যে জামিন পেলেন শামস ইকবাল?

তোলাবাজি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়ে গেলেন কলকাতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল। এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলার জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের চৌকাঠে পৌঁছাতেই যে চিত্রনাট্য তৈরি হলো, তাতে হতবাক আইনজীবী মহলও।
কী ঘটেছিল আলিপুর আদালতে?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। শামস ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি ৭০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেছিলেন এবং সেই টাকা না পেয়ে অভিযোগকারীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তল্লাশি ও তদন্তের পর মঙ্গলবার প্রাক্তন এই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু গ্রেফতারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যখন তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলো, তখন দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। আদালতে দাঁড়িয়ে অভিযোগকারী নিজেই তাঁর পূর্বের বয়ান থেকে সরে এলেন। তিনি বিচারকের সামনে দাবি করেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাঁর আর কোনো অভিযোগ নেই।
প্রাক্তন কাউন্সিলরের জামিন ও রাজনীতির সমীকরণ:
বাদীর এই আকস্মিক অবস্থানেই মামলার মোড় ঘুরে যায়। সরকারি আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে সওয়াল করার বিশেষ সুযোগ পাওয়ার আগেই, অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ তুলে নেওয়ার সপক্ষে যুক্তি দেন। স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগকারী সুর নরম করায় বিচারক অভিযুক্ত শামস ইকবালকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। গ্রেফতারি এবং জামিনের এই ব্যবধান মাত্র ৮ ঘণ্টার, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নেপথ্যে কোনো বড় প্রভাবশালীর হাত থাকতে পারে, যার ফলে এত বড় একটি ফৌজদারি মামলায় অভিযোগকারী এমন ‘ইউ-টার্ন’ নিলেন। তবে শামস ইকবালের অনুগামীরা এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, শাসকের আশ্রয়ে থাকলে আইন যে কতটা নমনীয় হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
অন্যদিকে, এই দ্রুত জামিন ঘিরে আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেছে। তোলাবাজির মতো অভিযোগ, যা আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর, সেখানে বাদীপক্ষের এমন পিছু হঠার বিষয়টি কি আদৌ স্বাভাবিক? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী কোনো গোপন সমঝোতা? শামস ইকবাল মুক্ত হয়ে বেরোতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বড় কোনো আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এই মুহূর্তে, গ্রেফতারির ৮ ঘণ্টার মধ্যে জামিন প্রাপ্তি কলকাতা তথা রাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।