বড় সিদ্ধান্ত দিল্লি সরকারের, বন্ধ হতে চলেছে পেট্রোল স্কুটার-বাইকের রেজিস্ট্রেশন, জেনে নিন কবে থেকে

পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদ্যুতিক যানের (EV) ব্যবহার বাড়াতে দিল্লি সরকার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ‘দিল্লি ইভি পলিসি ২.০’ (Delhi EV Policy 2026) কার্যকর করতে চলেছে। এই নতুন নীতি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ এপ্রিলের পর থেকে দিল্লিতে আর কোনো নতুন পেট্রোল বা সিএনজি (CNG) চালিত দু’চাকার যানের রেজিস্ট্রেশন হবে না। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের পর থেকে রাস্তায় নামতে পারবে কেবল ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইক।
ধাপে ধাপে পরিবর্তন:
এই নীতি বাস্তবায়নে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত নতুন অটো-রিকশা এবং N1 ক্যাটেগরির মালবাহী যানকে বৈদ্যুতিক সংস্করণে রূপান্তরিত করতে হবে। ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক দু’চাকার যানেরই রেজিস্ট্রেশন সম্ভব হবে। রাজধানীর বাতাসের গুণমান উন্নত করতে এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকি ও স্ক্র্যাপেজ ইনসেনটিভ:
বিদ্যুৎচালিত যানের দিকে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে দিল্লি সরকার আকর্ষণীয় ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। নতুন ইভি বাইক বা স্কুটার কিনলে প্রথম বছরে ৩০,০০০ টাকা, দ্বিতীয় বছরে ২০,০০০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, তিন চাকার গাড়ির জন্য ৫০,০০০ টাকা এবং মালবাহী N1 যানের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভের ঘোষণা করা হয়েছে।
পাশাপাশি, পুরনো দূষণকারী গাড়ি (ICE) বাতিল করে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিএস-৪ (BS-IV) বা তার চেয়ে পুরনো চার চাকার গাড়ি মালিকরা নতুন ইভি কেনার সময় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘স্ক্র্যাপেজ ইনসেন্টিভ’ পেতে পারেন। এছাড়া, ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে।
চার্জিং পরিকাঠামো ও লক্ষ্য:
দিল্লি সরকার জানিয়েছে, আগামী চার বছরে ১৫,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাদের। এই সময়কালের মধ্যে দিল্লিতে ৩২,০০০ নতুন চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর মতে, এই নীতি দিল্লির পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। রাজধানী সফলভাবে এই নীতি কার্যকর করতে পারলে, অন্য রাজ্যগুলিও ভবিষ্যতে একই পথে হাঁটবে কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।