বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, “পুষ্পা হতে গিয়ে ছোট প্যান্ট পরে কান ধরে ওঠবস করবেন!”

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। সম্প্রতি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের করা আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বিধানসভার অন্দরেই তাঁকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারীর ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’-এর সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে এদিন বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ। হুমায়ুন কবীরদের মতো ব্যক্তিদের শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে রেজিনগর থানায় ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হুমায়ুনের রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে এদিন তোপ দেগে বলেন, “আপনার রাজনৈতিক এজেন্ডা আমি জানি। ভরতপুর এবং রেজিনগরের পঞ্চায়েতগুলো ভেঙে নিজের দলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তা পারছেন না। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটকে কুক্ষিগত করার জন্য আপনি এই ধরনের লাগামছাড়া কথাবার্তা বলছেন।”
ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কার্যত হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমি বলছি, কান খুলে শুনে রাখুন। এরকম লাগামছাড়া বক্তব্য রাখতে আমি আর দেব না। সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সন্দেশখালিতেও একসময় এক দাপুটে নেতা ছিল, আর ক্যানিং-ভাঙড়ে ছিল এক জীবনতলার গুন্ডা। তাদের কী হাল হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। আর এক নেতা ছিল ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’। এমন ঝুঁকেছে যে, এখন ছোট প্যান্ট পরে রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করতে করতে যাচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “ভারতের আইন শেষ কথা বলে, কোনও বাপের আওয়াজ শেষ কথা বলে না। এই রকম কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন, আমি হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, যারা ওই বিধায়ককে অনুষ্ঠানে ডেকেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সোমবার স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’ পেশ করার কথা রয়েছে, যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।