তৃণমূলের ৪৪০ কোটির তহবিলের দখল কার? ঋতব্রত বনাম কালীঘাট লড়াই এবার হাইকোর্টে!

তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল অঙ্কের পার্টি তহবিল বর্তমানে কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে এবার আইনি লড়াই গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির বনাম কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে চলা এই সংঘাত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি মামলাটি উল্লেখ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। জানা গেছে, বিষয়টি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলার জটিলতা মূলত তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে, যেখানে বর্তমানে ৪৪০ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই এই তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রেষারেষি চরমে পৌঁছায়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত স্বচ্ছতা ও তহবিলের দখল নিয়ে অভিযোগ তোলে। পুলিশের পদক্ষেপের ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ওই ৪৪০ কোটি টাকা লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, মূল এআইটিসি (AITC) অ্যাকাউন্টে ২৬০ কোটি টাকা এবং ত্রিপুরা ও গোয়ার অ্যাকাউন্টে আরও ১৮০ কোটি টাকা রয়েছে।
আইনি জটিলতার পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসনিক টানাপোড়েন। অরূপ বিশ্বাসকে দলের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, তিনি ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে নিজেকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন অনেক চেকে সই করে রেখেছিলেন, যেগুলির ব্যবহার ও হিসাব নিয়ে তিনি অন্ধকারে রয়েছেন। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই তহবিল আটকে রাখা হয়েছে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সাফ জানিয়েছেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষকে নোটিশ দিতে হবে। সোমবার বা মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মামলায় পুলিশ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারকেও পক্ষ করা হয়েছে। ৪৪০ কোটি টাকার এই তহবিল কার হাতে থাকবে, তা এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ লড়াই এখন কেবল রাজনৈতিক মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আইনি গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে, যার পরবর্তী মোড় কী হবে, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।