ওবিসি কমিশনের খোলনলচে বদল! বড় সংশোধনী বিল আনল রাজ্য সরকার, কী কী সুবিধা পাবেন অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ?

রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) সম্প্রদায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিধানসভায় পেশ করা হলো ওবিসি সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান এসসি অ্যান্ড এসটি) (রিজ়ার্ভেশন অফ ভেকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট্স অ্যামেন্ডমেন্ট বিল), ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। রাজ্যের দাবি, ২০১২ সালের আইনের খামতি দূর করে কমিশনের কার্যকারিতা আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতেই এই নতুন উদ্যোগ।
বিলে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
১৯৯৩ সালের মূল আইনে সংশোধন এনে প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় রদবদল করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি আনা হয়েছে কমিশনের সদস্য-সচিব পদে। আগে যেখানে এই পদে কেবল ‘সেক্রেটারি’ বা সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগের কথা ছিল, সংশোধনীতে সেখানে ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি বা তার ঊর্ধ্বতন’ পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে কমিশনের প্রশাসনিক কাজ আরও দ্রুত ও নমনীয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, কমিশনের সদস্যদের মেয়াদও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে তিন বছরের জন্য পদে বহাল থাকবেন। তবে কর্মরত সদস্য-সচিবের মেয়াদের বিষয়টি রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
কমিশনের ক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি
নতুন বিলে কমিশনের কাজ ও দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তারিত করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন এলে কমিশন তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। কোনো শ্রেণি বাদ পড়েছে কি না (under-inclusion) অথবা তালিকায় ভুলবশত কোনো নাম ঢুকেছে কি না (over-inclusion)—এমন সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে কমিশনের হাতে। কোনো বিষয়ে প্রয়োজন মনে করলে কমিশন সরাসরি রাজ্য সরকারকে বিশেষ পরামর্শও দিতে পারবে। এর ফলে ওবিসি তালিকার অসংগতি দূর হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে সরকারি মহলের আশা।
ওবিসি কোটা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এই আইন অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে বিধানসভায় মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। বিরোধীরা বিলটির খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক তুললেও, সরকার তাদের লক্ষ্যে অটল। এই সংশোধনী বিল দুটি পাশ হলে ওবিসি কমিশনের ক্ষমতা যে বহুগুণ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত পরিষেবা পাবেন, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আইনটি কার্যকরী হওয়ার পর রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এর প্রভাব কতটা পড়ে।