স্কুলের পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! সিগন্যাল অমান্য করে উল্টে গেল পড়ুয়াবাহী পুলকার, আহত ৩

সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত সোমবার সকালে কলকাতার ময়দান এলাকায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর। এদিন সকালে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার পথে একটি পুলকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, পুলকারটির চালক ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় পুলকারটির। ধাক্কার তীব্রতায় পুলকারটি রাস্তার ওপরই উল্টে পড়ে।

আহতদের চিকিৎসা ও তদন্ত
এই দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন স্কুলপড়ুয়া আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে যায়। খবর পাওয়া মাত্রই তাদের তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ওই শিশুর মাথায় স্টিচ দেন এবং বাকি দুই পড়ুয়াকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত পুলকার ও অন্য গাড়িটির চালক—উভয়কেই আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার নেপথ্যে চালকের গাফিলতি কতখানি, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

পুলকার দুর্ঘটনা: যেন এক অন্তহীন অভিশাপ
শহরের রাস্তায় পুলকার দুর্ঘটনা এখন কার্যত দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে লেক টাউনের ভিআইপি রোডে একইভাবে পড়ুয়াবাহী পুলকারে ধাক্কা মারে একটি অ্যাপ ক্যাব। বরাতজোরে সেখানে বড় বিপদ না হলেও পড়ুয়ারা মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে একটি বেসরকারি স্কুলের গাড়ি পুকুরে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় সেবার ১৪ জন পড়ুয়াকে কোনোমতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

অতীতের মর্মান্তিক স্মৃতি
তবে অতীতের স্মৃতি আজও টাটকা। ২০২৫ সালে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় স্কুল থেকে ফেরার পথে পুকুরে গাড়ি পড়ে গিয়ে ৩ ছাত্র-ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল। মাদার মেরিনা মিশন স্কুলের ইশিকা মণ্ডল, সৌভিক দাস এবং আরিন দাসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল সারা রাজ্যে। একের পর এক এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন পুলকার চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে না, তা নিয়ে অভিভাবকদের মনেও তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শহরের রাস্তায় এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকরা।