স্নানযাত্রায় জগন্নাথের অলৌকিক রূপ! ১০৮ ঘড়া পবিত্র জলে মহাস্নান পুরীতে, ভিড় লক্ষাধিক ভক্তের

পুরীর শ্রীক্ষেত্র এখন ভক্তিরসে টইটম্বুর। কঠোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার স্নানযাত্রা। সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম পবিত্র এই উৎসব রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে গণ্য হয়। রত্নবেদী থেকে দেবতাদের স্নানমণ্ডপে নিয়ে আসার এই বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করতে সমুদ্রতীরে আছড়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীর ঢল।

শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, মন্দিরের উত্তর দিকে অবস্থিত পবিত্র ‘সুবর্ণ কূপ’ থেকে সংগৃহীত ১০৮ ঘড়া জলে দেবতাদের মহাস্নান সম্পন্ন হয়। এই জলে কর্পূর, চন্দন, কস্তুরী ও সুগন্ধী ফুল মিশিয়ে এক ভেষজ মিশ্রণ তৈরি করা হয়। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ আর শঙ্খধ্বনিতে স্নানমণ্ডল এক অলৌকিক পরিবেশ ধারণ করে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নান উৎসব প্রকৃতির পরিবর্তন ও সুস্থ জীবনের বার্তা বয়ে আনে।

স্নানের পরেই জগন্নাথদেব ধারণ করেন অপরূপ ‘গজবেশ’। ভক্তদের বিশ্বাস, এক গণেশ উপাসকের অহংকার চূর্ণ করতে জগন্নাথদেব নিজেই গণেশের রূপ ধারণ করেছিলেন। এই দিন থেকেই শুরু হয় এক রহস্যময় ও বেদনাবিধুর পর্ব—’অনসর’। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ১০৮ ঘড়া শীতল জলে স্নানের পর দেবতারা জ্বরে আক্রান্ত হন। ফলে আগামী ১৫ দিন গর্ভগৃহ থাকে ভক্তশূন্য। মন্দির জুড়ে চলে দেবতাদের নিভৃতবাস বা ‘কোয়ারেন্টাইন’। এই সময়ে রাজবৈদ্যের তত্ত্বাবধানে তাঁদের বিশেষ ভেষজ কাড়া ও ফলের রস দিয়ে সেবা করা হয়। গর্ভগৃহের বাইরে টাঙানো পটচিত্র দেখে ভক্তরা এই কদিন প্রার্থনা সারেন। অবশেষে নবযৌবন ও নেত্রোৎসবের তিথিতে দেবতারা আরোগ্য লাভ করলে শুরু হয় বিশ্বখ্যাত রথযাত্রা। চলতি বছর ১৬ জুলাই রথের রশিতে টান পড়বে। স্নানযাত্রা কেবল একটি প্রথা নয়, বরং অসুস্থতা ও সেরে ওঠার মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন শুরুর এক অনবদ্য বার্তা।