সোনা-রুপোর দামে বড় পতন! বিনিয়োগকারীদের জন্য কি এটিই কিস্তিতে কেনার সেরা সময়?

চলতি বছরের শুরু থেকেই সোনা ও রুপোর দামে যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে তা এক নতুন মোড় নিয়েছে। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬-এ সোনা ও রুপো তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছানোর পর থেকেই এই মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম ক্রমাগত নিম্নমুখী। বর্তমানে বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১.৩৯ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রুপোর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা প্রতি কেজিতে ২.১৫ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে বড় ধরনের ধস নামায় সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের হিসেবে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন হয়েছে। সোনার দাম এক সপ্তাহে ৫,০০০ টাকারও বেশি এবং রুপোর দাম ১৫,০০০ টাকার বেশি হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৯,৪৬১ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,২৮,২৬০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,০৫,০১৭ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বছর সোনা ও রুপোর দাম থেকে প্রায় ৩৬,০০০ টাকা এবং ১.৬৯ লক্ষ টাকা কমেছে।

সোনা-রুপোর দাম এভাবে কমছে কেন? অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা সোনা ও রুপোর মতো ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের দাম বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তৃতীয়ত, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত। বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো অলাভজনক ধাতুর পরিবর্তে বন্ড বা সুদের হার ভিত্তিক স্কিমে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যা সোনার চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সোনা ও রুপোর দামকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।