সোহরাবর্দি বিদায়, নবরূপে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’! কলকাতার রাস্তায় কি আরও বড় চমক?

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে এবার কলকাতার মানচিত্রে জায়গা করে নিল ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে রাস্তার নতুন নামকরণফলক বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতার আবেগ ও ইতিহাসের সঙ্গে যে মানুষগুলোর নাম মিশে রয়েছে, তাঁদের সম্মান জানাতেই রাস্তার নামকরণ করা হবে। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হওয়ায় শহরজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের এই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কেবল একটি সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মহানগরের এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের স্মৃতি। ১৯৪৬ সালের কুখ্যাত ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র উত্তাল সময়ে যে মানুষটি ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অগণিত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, তিনি হলেন গোপাল মুখার্জি, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামেই পরিচিত। বহু দশকের দীর্ঘ ব্যবধানে অবশেষে সেই বীরকে যথাযথ সম্মান জানাল রাজ্য সরকার। নাগরিক মহলের একটা বড় অংশ এই পরিবর্তনে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।
তবে এখানেই থামছে না রাস্তার নামকরণের এই প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, কলকাতার আরও অনেক রাস্তার নাম বদল হতে পারে। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন, শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা লেনিন সরণির নামও কি পরিবর্তিত হতে চলেছে? এই প্রসঙ্গে নাম পরিবর্তনের জন্য গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান কার্তিক মহারাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, রাস্তার নাম পরিবর্তনের জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
কী বলছেন কার্তিক মহারাজ? তিনি জানান, “ইতিহাসবিদ এবং প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরাই বিভিন্ন রাস্তার বর্তমান নাম এবং তার ইতিহাস পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। দীর্ঘদিন পরাধীনতার শৃঙ্খলে থাকায় আমাদের ইতিহাস ও শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বিকৃতি ঘটেছে। আমরা চাই সেই জায়গাগুলোতে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়া ফিরিয়ে আনতে। এর জন্য সময় লাগবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে।”
জানা গিয়েছে, আগামী অগস্ট মাসেই এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। কমিটিতে প্রায় দশজন বিশেষজ্ঞ সদস্য থাকবেন। প্রাথমিকভাবে কলকাতা শহরকে নিয়ে বসা হবে, এরপর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও এই পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। কার্তিক মহারাজের কথায়, “আমরা কোনো বিতর্কিত পথে না হেঁটে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নামগুলোকেই প্রাধান্য দেব। কমিটি যে নামগুলো সুপারিশ করবে, তা সর্বসম্মতিক্রমেই গ্রহণ করা হবে।”
এই নামকরণের পরিবর্তন যে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয়তাবাদী আবেগকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি বড় ধাপ—তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কার্তিক মহারাজ। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে কলকাতার রাস্তায় আর কোন কোন নতুন নাম যুক্ত হয়।