দিল্লির স্বামী ফিরেছিল শুক্রবার! তার পরেই রিষড়ার বাড়িতে রক্তস্নান, কেন এমন পরিণতি?

সন্দেহ, পরকীয়া আর সম্পর্কের জটিল সমীকরণের পরিণতিতে এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রিষড়া। শনিবার সকালে রিষড়া থানার অন্তর্গত ৩ নম্বর নতুনগ্রাম এলাকার এক বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ৩২ বছর বয়সী গৃহবধূ মনিকা ওঝা সরকারের গলাকাটা দেহ। এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক, আর তিনি আর কেউ নন, নিহত মনিকার স্বামী দীপঙ্কর সরকার। একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর এই জোড়া মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

রিষড়ার ৩ নম্বর গভঃ কলোনি প্রাথমিক স্কুলের পাশের এক ভাড়া বাড়িতে ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মনিকা। তাঁর স্বামী দীপঙ্কর থাকতেন দিল্লিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে দীপঙ্কর হঠাৎই বাড়িতে ফেরেন। এরপর গভীর রাতে তাঁদের ঘর থেকে প্রতিবেশীরা চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পান। কিন্তু শুক্রবার রাত হওয়ায় অনেকেই তা গুরুত্ব দেননি। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না মেলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই শিউরে ওঠেন সবাই। বিছানায় পড়েছিল মনিকার গলাকাটা নিথর দেহ, আর পাশেই শুয়ে ছিল তাঁদের ছয় বছরের অবোধ শিশুকন্যা।

মনিকার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের জেরেই দীপঙ্কর এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই দীপঙ্কর নিখোঁজ ছিলেন, যা পুলিশের সন্দেহকে আরও দৃঢ় করে। রিষড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তাঁর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীনই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক যুবকের ঝাঁপ দেওয়ার খবর সামনে আসে। বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেওয়ার ফলে বেশ কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয় যে, মৃত ওই যুবকই রিষড়ার গৃহবধূ মনিকার স্বামী দীপঙ্কর।

এই জোড়া মৃত্যুতে রিষড়া ও বেলগাছিয়া—দুই প্রান্তেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একটি ছোট মেয়েকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন ছিল মনিকার, অথচ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সন্দেহের বিষবাষ্প কীভাবে একটা গোটা পরিবারকে শেষ করে দিল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। পুলিশ এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে শুক্রবার রাতে ঠিক কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যার জেরে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন দীপঙ্কর।