তারাতলা বিপর্যয়: মৃতদের পরিবারের পাশে সরকার, উচ্চপর্যায়ের তদন্তে ১১ সদস্যের কমিটি

শনিবার সকালে তারাতলার ভয়াবহ নির্মাণ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই নিয়ে বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ জন। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ এখন অত্যন্ত জটিল ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের ‘প্যানকেক কোল্যাপ্স’-এর শেষ স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছেন উদ্ধারকারীরা। জানা গেছে, ধ্বংসাবশেষ থেকে পচা গন্ধ বেরোতে শুরু করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করছে। এনডিআরএফ (NDRF) বাহিনী অত্যন্ত নিঁখুতভাবে আজ ফের তল্লাশি চালাচ্ছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণের স্পন্দন অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।

উদ্ধারকার্যে গতি আনতে ইনটেনসিভ কাটিং পদ্ধতির সাহায্যে ঢালাই কংক্রিট ও টিনের পাত সরানোর কাজ চলছে। রেলের বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিম কাটার কাজও চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলের ঠিক সামনেই উদ্ধারকারীদের সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী ছোট হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ভেন্টিলেশন, অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং সিপিআর-এর মতো জরুরি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ঘটনাস্থলেই ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ কুমার সিনহার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পিডব্লিউডি (PWD), কেএমআরসিএল (KMRCL) এবং আইআরকন (IRCON)-এর প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অর্থ দিয়ে প্রাণের ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়, তবে সরকার বিপন্ন পরিবারগুলোর পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনডিআরএফ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।