সব্যসাচী দত্তের ‘গুপ্তধন’ উদ্ধার! নদিয়ার নেত্রীর বাড়িতে মিলল গয়নার পাহাড়, ফাঁস বড় রহস্য

বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে দানা বাঁধা বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি পড়ল। তাঁর ঘনিষ্ঠ নেত্রী তথা নদিয়ার তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সাড়ে তিন কেজি সোনার মালিকানা নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। পুলিশি জেরায় টিনা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, উদ্ধার হওয়া ওই বিপুল পরিমাণ সোনার আসল মালিক সব্যসাচী দত্ত নিজেই। এই বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গত সোমবার রাতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে সাথে নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল হানা দেয় নদিয়ার করিমপুর ও তেহট্টে। সেখানে টিনা ভৌমিক সাহার বাপেরবাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের সোনার গয়না। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তোলাবাজির কালো টাকা থেকেই ওই বিপুল পরিমাণ গয়না কিনে নিজের ঘনিষ্ঠ নেত্রীর হেফাজতে রেখেছিলেন সব্যসাচী।

যদিও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শুরুতে টিনা দাবি করেছিলেন, উদ্ধার হওয়া গয়নার মালিক তিনি নিজেই এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য মহিলারা। এমনকী সমস্ত গয়নার বৈধ নথিপত্র তাঁর কাছে আছে বলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে বড় দাবি করেছিলেন তিনি। তবে বুধবার বিধাননগর উত্তর থানায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের কাছে ভেঙে পড়েন টিনা। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে টিনা শেষপর্যন্ত কবুল করেছেন যে, ওই বিপুল সোনার গয়নার আসল মালিক সব্যসাচী দত্ত।

কিন্তু কে এই টিনা? কীভাবে তৈরি হয়েছিল সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর এই গভীর সখ্যতা? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিনা ভৌমিক সাহা নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা এবং তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বঙ্গজননী সংগঠনের সভানেত্রী ছিলেন। কর্মসূত্রে কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করলে সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সব্যসাচীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এই নেত্রী।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সব্যসাচীর আমন্ত্রণে তৃণমূলের বহু অনুষ্ঠানে তিনি তেহট্টে যেতেন, আবার সব্যসাচীর ডাকে টিনাও নিয়মিত আসতেন কলকাতায়। কলকাতার তাবড় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সুবাদেই নাকি জেলা তৃণমূলের রাজনীতিতে টিনার ক্ষমতা ও দাপট বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন রাজনৈতিক নেত্রীর কাছে কেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রের এত সোনা গচ্ছিত রাখা ছিল? আর এই সব সোনা কি আসলেই সব্যসাচীর অন্য কোনো উৎস থেকে অর্জিত কালো টাকা? পুলিশের এই স্বীকারোক্তি মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন সব্যসাচী দত্তের বয়ানের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।