চম্পত রাইয়ের পদত্যাগ ও অনুদান দুর্নীতি: বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে সরাসরি ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী

রাম মন্দিরের অন্দরে কোটি কোটি টাকার অনুদান ও অলঙ্কার চুরির ঘটনায় উত্তাল উত্তরপ্রদেশ। এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির আবহে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইয়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এবার এই মহাসংকটের মোকাবিলায় সরাসরি ময়দানে নেমে বিরোধীদের কার্যত একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

বিরোধীদের প্রতি যোগীর হুঙ্কার: মন্দিরের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঘটনায় একদিকে যেমন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে এই ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলগুলির রাজনীতির মোকাবিলায় তিনি অত্যন্ত কঠোর। দেওরিয়ার এক জনসভা থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “অযোধ্যার দিকে কুনজর দেবেন না। রাম ভক্তদের ধৈর্য পরীক্ষা করতে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এই চুরি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য থাকে, তবে তা নিয়ে গণমাধ্যমে বা পথেঘাটে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সরাসরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)-র কাছে জমা দিতে হবে।

সব দোষীর হবে সাজা: নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, সত্যকে মিথ্যার কবল থেকে উদ্ধার করবই। তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট পেতেই আমরা দ্রুত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। অপরাধী যে-ই হোক, সনাতন মূল্যবোধ নিয়ে ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না।”

ট্রাস্টের অন্দরে অস্থিরতা: এদিকে, চুরির দায় ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার নৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন। ‘অযোধ্যার এনসাইক্লোপিডিয়া’ হিসেবে পরিচিত চম্পত রাইয়ের এই ইস্তফা মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এদিকে, অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ট্রাস্টের শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

অযোধ্যার মর্যাদা রক্ষায় সরকার যে এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, যোগীর এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিতবাহী।