ইছামতীর বুকে আর বেআইনি দাদাগিরি নয়! হাইকোর্টের নির্দেশে গুঁড়িয়ে ফেলা হচ্ছে টাকির ২ বহুতল

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভা এলাকায় ইছামতী নদীর তীরে বেআইনি নির্মাণ রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল প্রশাসন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের কড়া নির্দেশে নদীর পাড়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা দু’টি বহুতল গেস্ট হাউস— ‘সিটি গেস্ট হাউস’ ও ‘দিশা গেস্ট হাউস’—ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করল টাকি পুরসভা। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে এই অবৈধ নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটে খুশির হাওয়া বইছে টাকির সাধারণ মানুষ ও পরিবেশপ্রেমীদের মনে।
আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছামতী নদীর চরে এবং কোস্টাল রেগুলেশন জোন (CRZ)-এর নিয়মকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গজিয়ে উঠছিল একাধিক অবৈধ নির্মাণ। বিগত সরকারের আমলে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে বারংবার অভিযোগ জানালেও তা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (WPA (P) 223 of 2026) দায়ের করেন মামলাকারী চিন্ময় ঢালি। তাঁর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজী আদালতকে জানান, ২০১১ সালের পর থেকে টাকির ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ নষ্ট করে নদীর ধার বরাবর বৈধ অনুমতিহীন দৃষ্টিকটু নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছে।
গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন। পুরসভার আইনজীবী আদালতে স্বীকার করেন যে, অভিযুক্ত গেস্ট হাউসগুলি কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই আদালত আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। ১৬ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন পুরসভাকে এই ভাঙার কাজের অগ্রগতির স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা অধীর কুমার পাল জানান, ২০১০-২০১১ সালের পর থেকে নদীর জায়গা দখল করে একের পর এক গেস্ট হাউস ও বহুতল গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং বর্ষায় জল জমছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, শুধু নদীর পাড় নয়, যে সমস্ত পুকুর ও জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও যেন একই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
হাইকোর্টের এই কড়া বার্তার পর আর সময় নষ্ট করেনি টাকি পুরসভা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয়তায় এলাকায় খুশির হাওয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ইছামতীর তীরে আরও কোনও বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আগে বড়সড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং আইনের শাসন কায়েম করবে।