রাম মন্দিরের দানবাক্সে হাত! চম্পত রায়ের আপ্তসহায়কসহ গ্রেফতার ৮, কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের পর্দাফাঁস

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা নিয়ে মারাত্মক কারচুপির অভিযোগে তোলপাড় দেশ। বৃহস্পতিবার এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় এফআইআর দায়ের হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শুক্রবার মূল অভিযুক্ত-সহ মোট আটজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন খোদ শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক এবং মন্দিরের টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী।

কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতির জাল?
মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ই প্রথম পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে রমাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, যিনি চম্পত রায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত। রমাশঙ্কর ছাড়াও গ্রেফতার হওয়া বাকি সাতজন হলেন অনুকূল মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, করুণেশ পাণ্ডে, মণীশ যাদব, লবকুশ মিশ্র, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। এদের মধ্যে সুভাষ শ্রীবাস্তব অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী, যিনি মন্দিরের দান গোনার মূল দায়িত্বে ছিলেন।

সিট-এর তদন্তে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। ১৫ থেকে ২০ জুনের মধ্যে তদন্তকারীরা মন্দিরের প্রণামী বাক্স, স্টোরেজ, অ্যাকাউন্টিং খাতা এবং সিসিটিভি ফুটেজ তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করেন। সিট-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভক্তদের দেওয়া নগদ টাকা এবং সোনা-গয়নার হিসেবে প্রথম থেকেই বড়সড় গরমিল ছিল। এই গরমিল ধরা পড়তেই ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করার সুপারিশ করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ এবং ৩(৫) ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি, চুরি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

দুর্নীতির শিকড় কি আরও গভীরে?
২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাস্টের তহবিলে নগদ অনুদান হিসেবে জমা পড়েছে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা! এর বাইরে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও হিরের গহনার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছে, ২০২০ সালেই একটি অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চরম গলদ ও পেশাদারিত্বের অভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। অডিটররা সেসময়ই ট্রাস্টকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষিত হয়।

বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনো ‘বড় মাথা’ রয়েছে কি না। ভক্তদের দেওয়া বিশ্বাস ও টাকায় এই নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনায় অযোধ্যা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, তদন্তের পরিধি আরও বাড়বে এবং অপরাধী যেই হোক, তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।