“দাদাগিরি না করেও দাদাগিরি!” নতুন সঞ্চালক দেবকে দেখে কী বললেন আবির-যিশু?

“ইন্ডাস্ট্রির নেতা হতে আসিনি”—এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেছিলেন দেব। কিন্তু বর্তমানে টলিউডের এই সুপারস্টার যে রীতিমতো ‘দাদাগিরি’ ফলাতে প্রস্তুত, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। দীর্ঘ জল্পনা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এল জনপ্রিয় শো ‘দাদাগিরি’-র নতুন সিজনের প্রোমো। আর সেই ঝলকেই নিশ্চিত হয়ে গেল, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেড়ে আসা এই হেভিওয়েট মঞ্চের দায়িত্ব এবার কাঁধে তুলে নিচ্ছেন ঘাটালের ভূমিপুত্র দীপক অধিকারী।
যখন থেকে খবর চাউর হয়েছিল যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ‘বিগ বস’-এর দায়িত্ব নিচ্ছেন, ঠিক সেদিন থেকেই সাধারণ দর্শকদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল—তাহলে ‘দাদাগিরি’-র হাল ধরবেন কে? নাম ভেসে আসছিল অনেক তারকার, তবে দেবের নাম নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সব জল্পনার ইতি টেনে ২৬ জুন মধ্যরাতে প্রকাশিত প্রোমোতে ধরা দিলেন দেব।
নতুন শো-এর ট্যাগলাইন রাখা হয়েছে—”দাদাগিরি না করেও, দাদাগিরি করা যায়!” প্রোমোতে দেবকে এক অদ্ভুত নার্ভাস পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই খবর ছড়ানোর পরেই দেবকে নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। প্রোমোতে সেই বাস্তব পরিস্থিতিই তুলে ধরা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, শো-এর প্রস্তাব পাওয়ার পর দেবের যেন ঘুম উড়েছে। বাড়িতে পরিচারিকা থেকে শুরু করে মা পর্যন্ত তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু দেব দ্বিধাগ্রস্ত। তাঁর মনে সংশয়, “কোথায় দাদা আর কোথায় আমি!” এই পরিস্থিতির মাঝে তাঁকে সাহস জোগাতে দেখা গিয়েছে টলিউডের দুই জনপ্রিয় মুখ আবির চট্টোপাধ্যায় এবং যিশু সেনগুপ্তকে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত ভয় কাটিয়ে মঞ্চের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
বাংলার নানা প্রান্তে অডিশন পর্ব শেষ। এবার ফ্লোরে ফেরার অপেক্ষা। তবে এই চ্যালেঞ্জ যে দেবের জন্য কতটা কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে একের পর এক সিনেমার শ্যুটিং, অন্যদিকে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব, আর তার ওপর ‘দাদাগিরি’-র মতো একটি সুপারহিট শো-এর গরিমা ধরে রাখার চাপ—সব মিলিয়ে দেব এখন আগের থেকে দ্বিগুণ ব্যস্ত। আগের সঞ্চালকের সঙ্গে তাঁর তুলনা যে অনিবার্য, তা দেব নিজেও জানেন। অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি বেশ নার্ভাস এবং খানিকটা ভয়েই আছেন। তবে ঘাটালের এই ভূমিপুত্র বরাবরই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শুরু হওয়া ‘দাদাগিরি আনলিমিটেড’-এর প্রথম দুটি সিজন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সঞ্চালনা করেছিলেন। তৃতীয় সিজনে মিঠুন চক্রবর্তী এবং চতুর্থ সিজন থেকে গত সিজন পর্যন্ত ফের সৌরভের জাদুতে বুঁদ ছিল বাংলা। এবার সৌরভের সেই আইকনিক চেয়ারে দেব নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শো নিয়ে দেব আপাতত মুখ খুলতে নারাজ হলেও, তাঁর নতুন এই যাত্রার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলা।