আইনি লড়াইয়ে পিছু হঠলেন জ্যাকলিন! ২০০ কোটির মামলা থেকে সুপ্রিম কোর্টের পথ বন্ধ, কেন এই সিদ্ধান্ত?

২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় আইনি রণকৌশলে বড়সড় বদল আনলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার যে রাস্তা তিনি বেছে নিয়েছিলেন, মাঝপথেই সেখান থেকে সরে এলেন অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত অভিনেত্রীকে তাঁর বিশেষ অনুমতির আবেদন (SLP) প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর চার্জশিট ও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বাতিলের যে আবেদন তিনি করেছিলেন, তা আর সুপ্রিম কোর্টে খতিয়ে দেখা হবে না।

আদালতে কী ঘটল?
বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতের শুরুতেই জ্যাকলিনের আইনি পরামর্শদাতারা আবেদনটি প্রত্যাহার করার আর্জি জানান। আদালত সেই আবেদনে সাড়াও দেয়। প্রসঙ্গত, এর আগে মামলাটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস. চান্দুরকরের বেঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও, নৈতিক কারণে বিচারপতি মিশ্র শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

পিছু হঠার নেপথ্যে কারণ:
দিল্লি হাই কোর্ট যখন ইডি-র চার্জশিট খারিজ করতে অস্বীকার করে, তখন সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন জ্যাকলিন। কিন্তু লড়াইয়ের মাঝপথেই আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবাক করেছে অনেককে। সপ্তাহখানেক আগেই এই মামলায় ‘রাজসাক্ষী’ বা ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদনও গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ইডি সেই সময় দাবি করেছিল, জ্যাকলিনের ভূমিকা তদন্তে মোটেই সন্তোষজনক ছিল না এবং তিনি সত্য গোপন করছেন।

ইডির অভিযোগ ও জ্যাকলিনের পাল্টা বয়ান:
ইডি-র মূল অভিযোগ, কুখ্যাত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের জালিয়াতির কথা জানার পরেও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন। সুকেশ সেই বেআইনি টাকা ব্যবহার করে অভিনেত্রীকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের উপহার ও বিলাসবহুল সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, জ্যাকলিন শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন। তাঁর দাবি, সুকেশের অপরাধের জগৎ বা উপহারের অর্থের উৎস সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। সম্প্রতি দিল্লির পটিয়ালা হাউস আদালতে হাজিরা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো আইনি ট্রায়াল বা বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত।

এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সুকেশ, তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পল সহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পথ বন্ধ হওয়ায় জ্যাকলিনের আইনি লড়াই এখন সম্পূর্ণরূপে পটিয়ালা হাউস কোর্টের ওপরই নির্ভর করছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি এই মোড় পরিবর্তনের পর নিম্ন আদালতে জ্যাকলিন কতটা স্বস্তি পান।